মনিরামপুরে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছেন রোগীরা

মিজানুর রহমান, মনিরামপুর (যশোর) প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

ঘাড়ে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন ষাটোর্ধ্ব ফতেমা বেগম নামের এক নারী। তীব্র ব্যথায় দুই রাত ঘুমাতে পারেননি তিনি। উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণ নাকি অন্য কোনো সমস্যার কারণে তার এই যন্ত্রণা- এ নিয়ে চোখে-মুখে ভয়ের ছাপ ফুটে উঠেছে। দায়িত্বরত চিকিৎসক স্ফিগমোম্যানোমিটার দিয়ে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা ফতেমা বেগমের রক্তচাপ মেপে জানালেন, তিনি ভালো আছেন। চিকিৎসকের কথায় স্বস্তি পেয়ে এক চিলতে হাসি দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন তিনি। নিমিষেই দূর হয়ে গেল চোখে-মুখের সেই আতঙ্ক। একই সময়ে চিকিৎসা নিতে আসা ৪ বছর বয়সী জান্নাতুল মাওয়ার মা-ও সেবা পেয়ে খুশি। শনিবার সরেজমিনে গেলে এমন চিত্র চোখে পড়ে।

বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্রত নিয়েই গেল মার্চ মাস থেকে রাইসা-আখদান মেডিকেল সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়েছে। এটি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কামিপুর গ্রামে অবস্থিত। আমেরিকাপ্রবাসী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক এই মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম শুরু করেছেন।

দারিদ্র্যকে জয় করে নানা প্রতিকূল পরিবেশ পাড়ি দিয়ে ভাইদের মধ্যে বড় তিনি, আর ছোট তিন ভাইও আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। বুয়েট (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে পাস করে স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকায় যান তিনি। পরে ছোট ভাইদেরও নিজের মতো করে গড়ে তোলেন। মেজ ভাই মফিজুর রহমান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে স্কলারশিপ নিয়ে ইংল্যান্ডে যান। সেজ ভাই সয়েবুর রহমানও বুয়েট থেকে পাস করে আমেরিকায় পাড়ি জমান। ছোট ভাই আসাদুজ্জামান মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে জার্মানির একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট সম্পন্ন করে বর্তমানে সেখানেই কর্মরত আছেন।

দায়িত্বরত ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসক নাজিমুল হাসান জানান, রাইসা-আখদান মেডিকেল সেন্টারে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। শুরুতে ডা. নাফিজ নামের একজন এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক রোগী দেখতেন। বর্তমানে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটিতে রয়েছেন।

গত ২৪ মার্চ এই মেডিকেল সেন্টারের উদ্বোধন করেন স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। উদ্বোধনের পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাতা আমেরিকাপ্রবাসী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক জানান, ছোট পরিসর থেকে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এটিকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে কোনো রোগীকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে না হয়। এ জন্য তিনি সবার দোয়া কামনা করেছেন।

এএন