বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ: রূপালী ব্যাংক পিএলসি পরিবারের গভীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ০৮:২৭ এএম

একটি যুগের অবসান ও জীবন্ত ইতিহাসের প্রস্থান, আজকের সূর্যোদয় বাংলাদেশের জন্য নিয়ে এসেছে এক অপূরণীয় শূন্যতার সংবাদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমা আর ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর মহাকালের এক নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তার এই প্রয়াণে রূপালী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী আজ গভীরভাবে শোকাহত। 

ব্যাংকিং পরিমণ্ডলে শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে, কারণ তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও আর্থিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের অন্যতম স্থপতি।

রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে এক যুক্ত শোকবার্তায় বলা হয়েছে, আমরা আজ শোকস্তব্ধ। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সাহসিকতা ও ধৈর্যের এক জীবন্ত রূপক। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে আধুনিকায়ন এবং সাধারণ মানুষের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার গৃহীত গণমুখী অর্থনীতির নীতিসমূহ আজও আমাদের কর্মপন্থার অংশ। রূপালী ব্যাংক পরিবার মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও কোটি কোটি গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।

একজন প্রাজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনকাল ছিল বাংলাদেশের আর্থিক খাতের জন্য স্বর্ণযুগ।

রূপালী ব্যাংক মনে করে, তার সময়ে নেওয়া সাহসী পদক্ষেপগুলোই আজ আমাদের আর্থিক ভিত্তি মজবুত করেছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথিকৃৎ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং চ্যানেলের আওতায় আনার জন্য তিনি যে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন, তার ফলে রূপালী ব্যাংকের গ্রামীণ শাখাগুলো আজ প্রাণবন্ত। 

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তার সরকার যখন মুক্তবাজার অর্থনীতির দ্বার উন্মোচন করে, তখন রূপালী ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করার সুযোগ পায়। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তিনি যে আইনি সংস্কার ও অর্থঋণ আদালতের কার্যক্রম শক্তিশালী করেছিলেন, তা ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছিল।

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন নারীর ক্ষমতায়নের মূর্ত প্রতীক। তার দূরদর্শী চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে রূপালী ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ স্কিম এবং অগ্রাধিকারমূলক সেবা চালু করেছিল। তিনি মনে করতেন, নারীদের হাতে পুঁজি পৌঁছালে তবেই দেশের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি সম্ভব। তাঁর সেই দর্শনকে ধারণ করেই রূপালী ব্যাংক আজ দেশের কয়েক লাখ নারী উদ্যোক্তার বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।

মহাকালের এই নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রূপালী ব্যাংক পিএলসি দেশব্যাপী তাদের সকল শাখা ও প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন এবং ব্যাংকের সকল ভবনে জাতীয় পতাকা ও ব্যাংকের নিজস্ব পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। বাদ জোহর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোনাজাতে তার রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ এবং দেশ ও জাতির সেবায় তার অবদানের কথা স্মরণ করে মহান আল্লাহর কাছে তার জান্নাতুল ফেরদৌস নসিবের প্রার্থনা করা হয়। 

রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একটি বিশেষ শোক বই খোলা হয়েছে, যেখানে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মচারীরা তাদের প্রিয় নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা ও অনুভূতি ব্যক্ত করছেন।

রূপালী ব্যাংক পিএলসির প্রবীণ কর্মকর্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যখনই রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ছিলেন, তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আন্তরিক ছিলেন। রূপালী ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠন এবং আধুনিকায়নে তাঁর দিকনির্দেশনা ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। তাঁর প্রশাসনিক দৃঢ়তা এবং ব্যাংকারদের প্রতি সম্মানবোধ রূপালী ব্যাংকের ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায়।

রূপালী ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আজ হাহাকার বিরাজ করছে। ব্যাংক পাড়ায় আজ কাজের ব্যস্ততার মাঝেও সবার মুখে কেবল তারই কথা। 

কর্মকর্তারা বলছেন, বেগম জিয়া কেবল একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের সাহস। যখনই দেশ কোনো অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে, তার নেতৃত্ব আমাদের দিশা দেখিয়েছে। আজ তাঁর চলে যাওয়া মানে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বিশাল অধ্যায়ের সমাপ্তি। ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য চড়াই উতরাই পার করা এই মহীয়সী নারী আজ মহাকালের যাত্রী। তবে তার রেখে যাওয়া উন্নয়নের মডেল, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি ভালোবাসা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত তথা পুরো অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে বেঁচে থাকবে। 

রূপালী ব্যাংক পিএলসি তার প্রদর্শিত পথে দেশ ও মানুষের আর্থিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বেগম খালেদা জিয়া চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন তাঁর কর্মে, তাঁর আদর্শে এবং এদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে।