আরও বাড়ল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬.৭৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ০.৮৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড তেলের দামও বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি।

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ির ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের তেল উৎপাদন স্থাপনায় হামলার কারণে দেশটির দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল কমে গেছে। এছাড়া ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহনও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা কমলেও সাধারণ মানুষের নাগালে তেলের দাম ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এর পেছনে বেশ কিছু কারিগরি ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে:

হরমুজ প্রণালির সংকট: বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধাবস্থার কারণে দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ থাকায় সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ট্যাংকারের দূরত্ব: যুদ্ধের কারণে বিশাল তেলবাহী জাহাজগুলো বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ছড়িয়ে রয়েছে। এগুলো পুনরায় ফিরে এসে তেল লোড করতে কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে।

অবকাঠামোর ক্ষতি: যুদ্ধের সময় অনেক তেলকূপ ও রিফাইনারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি বন্ধ থাকা রিফাইনারি বা তেলকূপ পুনরায় চালু করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ কারিগরি প্রক্রিয়া।

নিরাপত্তা ঝুঁকি: ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে অনেক শিপিং কোম্পানি বড় বিনিয়োগ বা জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিতে এখনো দ্বিধা বোধ করছে।

বর্তমানে সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চললেও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা সহসা কাটছে না।

জেএইচআর