করদাতাদের হয়রানি কমানো এবং রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল কর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে ‘ফেসলেস’ বা সরাসরি যোগাযোগবিহীন কর প্রশাসন চালু করা হবে।
শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘রাজস্ব আহরণ: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নীতি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র। এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, করদাতাদের অন্যতম বড় অভিযোগ হয়রানি। এ সমস্যা দূর করতে কর ব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় ও অনলাইনভিত্তিক করা হচ্ছে, যাতে করদাতার সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রয়োজন না পড়ে। অডিট নির্বাচন থেকে কর ফেরত-সব কার্যক্রম ঝুঁকিভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে।
তিনি জানান, অনলাইন কর রিটার্ন ব্যবস্থা চালুর ফলে করদাতাদের আর জটিল হিসাব করতে হবে না। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতেই কর নির্ধারণ হবে। একই সঙ্গে করদাতারা অনলাইনে নিজেদের কর হিসাব, বকেয়া ও ফেরতের তথ্য সহজেই দেখতে পারবেন।
মো. আব্দুর রহমান খান আরও বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে আয়কর ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা হবে। ফেরতযোগ্য অর্থ সরাসরি করদাতার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে মূল্য সংযোজন কর ফেরতের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
কর সংস্কারের অংশ হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থায় কর শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দেন তিনি। তার মতে, শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই কর ব্যবস্থার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে তারা দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
রাজস্ব আদায় বাড়াতে নগদ লেনদেন কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে ধাপে ধাপে চালানভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এতে কর ফাঁকি কমবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও জবাবদিহির আওতায় আসবে।
এম জি