অর্থমন্ত্রী

বিনিয়োগ বাড়লেই ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
আমির খসরু, ছবি: সংগৃহীত

ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বড় আকারের বিনিয়োগকে অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও গতিশীল করতে হলে বড় বিনিয়োগের বিকল্প নেই। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি উদাহরণ দেন যে, টিউবওয়েলে পানি কমে গেলে যেমন পানি ঢেলে চাপ সৃষ্টি করতে হয়, তেমনি অর্থনীতিতে গতি আনতেও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব এবং বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যদি সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একাধিক নতুন উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে এবং যোগ্যতা পূরণ না করলে নিয়োগ দেওয়া হবে না।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ না হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পর্যবেক্ষণের জন্য ড্যাশবোর্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে সরকারের অধীনে থাকা প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রকল্প পর্যালোচনা করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অপ্রয়োজনীয়, অকার্যকর বা দুর্নীতিসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো বাতিল করা হবে। আংশিক সম্পন্ন প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পুরোনো প্রকল্প বাদ পড়লে নতুন প্রকল্প গ্রহণের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব প্রকল্পে ‘ভ্যালু ফর মানি’, বিনিয়োগের রিটার্ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রাজস্ব আহরণ প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো কম। এ পরিস্থিতি উন্নত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্ত করে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সেই সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।

তিনি জানান, নতুন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন ও অ্যাক্রেডিটেশন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এএন