পবিত্র ঈদুল আজহার পর রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মাংস ও ডিমের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের আগের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। নিয়মিত সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার বাজারে প্রতি কেজি কাঁকরোল ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, কচুর চারা ৭০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ টাকা এবং পেঁপে ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া লেবু প্রতি হালি ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, ঈদের আগে পরিবহন ব্যস্ততা এবং বাড়তি চাহিদার কারণে অনেক সবজির দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি আসতে শুরু করায় বাজারে দাম কমেছে।
রাজধানীর শনিরআখড়া কাঁচাবাজারের এক বিক্রেতা জানান, ঈদের আগে অনেক সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি ছিল। বর্তমানে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম কমেছে এবং আগামী সপ্তাহে সরবরাহ আরও বাড়লে কিছু সবজির দাম আরও কমতে পারে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে এখনও তেমন স্বস্তি নেই। বর্তমানে চাষের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২২০ টাকা, চাষের শিং মাছ ৩৮০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা এবং চিংড়ি মাছের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেশি থাকায় মাছের দাম কমানোর সুযোগ সীমিত।
ডিমের বাজারেও স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১২০ টাকা এবং দেশি ডিম ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারেও দামের বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কোরবানির ঈদের পর মাংসের বেচাকেনা তুলনামূলক কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বাজার করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, সবজির দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে মাছ, ডিম ও মাংসের উচ্চমূল্যের কারণে সামগ্রিক বাজার খরচ এখনও অনেক পরিবারের জন্য চাপের কারণ হয়ে আছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মৌসুমি সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে বাজারে দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। তবে মাছ, ডিম ও মাংসের বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
এম জি