কুবিতে রক্তের ফেরিওয়ালা বন্ধু’র ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

কুবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০৬:৩৬ পিএম

‘যদি করি স্বেচ্ছায় রক্তদান, বাচঁবে জীবন বাচঁবে প্রাণ’ এটি সংগঠনটির প্রতিপাদ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারী এমনকি আশপাশের অঞ্চলে মানুষের জন্য রক্ত জোগাড় করাই যাদের মূল কাজ। বলতে গেলে রক্তের ফেরিওয়ালা তারা। বিনামূল্যে বছরের পর বছর এভাবেই মানুষের কল্যানে কাজ করে সংগঠনটি।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় সংগঠনটির ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ও ৩য় রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবন থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্যাডমিন্টন মাঠে এসে শেষ হয়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহিল মারুফের সঞ্চালনায় ও সভাপতি রাসেল মাহমুদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান, সংগঠনটির মডারেটর সাইদুল আল আমিন ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা কার্যালয়ে পরিচালক ড. মোহাঃ হাবিবুর রহমান।

ড. মোহাঃ হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা সবাই সবার বন্ধু। একমাত্র বন্ধু সংগঠন সবসময় মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের ভোগে শান্তি নয়, ত্যাগে শান্তি। আমাদের দেশে যে পরিমাণ জনসংখ্যা রয়েছে সেটা আমাদের জনসম্পদে রুপান্তর করতে হবে। এরজন্য আমাদের মনোবল ও শরীর সুস্থ থাকা দরকার। এর জন্য বন্ধু সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। বন্ধু সংগঠনের এই ধারা অব্যাহত থাকুক।

মডারেটর সাইদুল আল আমিন বলেন, মানুষকে রক্ত দান করলে একটা ভালবাসার বন্ধন তৈরি হয়। যার সাথে রক্তের সম্পর্ক হয়ে যায়, তার সাথে খারাপ আচরণ করা যায় না। এই সম্পর্ক টাকা দিয়ে কিনা যায় না।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, কিছু সংগঠন রয়েছে যারা জাতির স্বার্থে কাজ করে।  বন্ধু সংগঠন তাদের মধ্যে একটি। করোনার সময় এই সংগঠন মানবতার কল্যাণে কাজ করে গেছেন। এখানে যারা কাজ করছেন তাদের বেশিরভাগ ছিল ছাত্ররা। আর যে একবার রক্ত দান করেন সে প্রতিনিয়ত রক্ত দেওয়া চেষ্টা করেন। এক ব্যাগ ব্লাড দেওয়ার পরেও শিক্ষার্থীদের মাঝে কোনো ভীতি কাজ করে না। কারণ তারা সাহসের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। রক্তদানের ক্ষেত্রে কোনো ধর্ম বর্ণ দেখে না। যারা রক্ত দেয় তাদের মন যেমন পরিশুদ্ধ, তাদের রক্তও পরিশুদ্ধ থাকে।

সভাপতি রাসেল মাহমুদ ভূঁইয়া বলেন, আমরা সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। যেকোন মুহূর্তে মানুষের রক্ত প্রয়োজন হলে আমরা দ্রুত সময়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করি। তবুও আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যদি প্রশাসন আমাদেরকে একটু সাহায্য সহযোগিতা করে তাহলে আমরা ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাব। একসময় আমাদের রক্ত দেওয়ার জন্য ডোনার পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ ডোনার রয়েছে। যেকোন সময়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা এগিয়ে আসব।

পরে অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এসময় অতিথিদের সম্মাননা স্বারক তুলে দেওয়া হয়। কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মোঃ আবুল হায়াত ও আইন অনুষদের ডিন ড. মোঃ শামিমুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা৷

কেএস