সুখবর পাচ্ছেন এমপিওভুক্ত পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী

আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪, ০৩:০৩ পিএম

অবসর কল্যাণ বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের নামে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতনের ১০ শতাংশ কেটে রাখার বিপরীতে আর্থিক ও অবসর সুবিধা অবসরের ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

ইতিপূর্বে এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হাইদার এবং বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন।

এ সময় আদালত বলেন, এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ৬ মাসের মধ্যে দিতে হবে, না দিলে আদালত অবমাননা হবে।

হাইকোর্ট বলেন, এটা চিরন্তন সত্য যে শিক্ষকদের অবসরের সুবিধা পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। এই হয়রানি থেকে তারা কোনোভাবেই পার পান না। অবসরভাতা পাওয়ার জন্য শিক্ষকরা বছরের পর বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে পারেন না।

এর আগে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতনের ৬ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ কর্তনের বিপরীতে, বাড়তি আর্থিক সুবিধা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। গত সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সেই রুলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রায়ের দিন ধার্য ছিল।

আদালতে শিক্ষকদের করা রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। তিনি জানান, এ রায়ের ফলে এমপিওভুক্ত পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধা ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের টাকা প্রদান করতে হবে।

তিনি আরও জানান, অবসরের পর কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের টাকা তুলতে শিক্ষকদের বছরের পর বছর ঘুরতে হয় যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই আদেশ পরিপালন করা না হলে আদালত অবমাননার দায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আদালত।

রায়ের আগে ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রবিধানমালা, ১৯৯৯ এর প্রবিধান-৬ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা প্রবিধানমালা, ২০০৫ এর প্রবিধান-৮ অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কাটার বিধান ছিল। যার বিপরীতে ট্রাস্টের তহবিল থেকে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কিছু আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হতো। তবে ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল উল্লিখিত প্রবিধানমালার শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কাটার বিধানগুলো সংশোধনপূর্বক ৪ শতাংশ এবং ৬ শতাংশ করে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কাটার পরিবর্তে ৪ শতাংশ এবং ৬ শতাংশ কাটার বিধান করা হলেও উক্ত অতিরিক্ত অর্থ কাটার বিপরীতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কোনো বাড়তি আর্থিক সুবিধার বিধান করা হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারীদের এপ্রিল-২০১৯ মাসের বেতন থেকে ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ টাকা অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে জমা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

জানা যায়, অতিরিক্ত অর্থ কাটার বিপরীতে কোনো আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি না করেই শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ টাকা কাটার আদেশের কারণে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক ও কর্মচারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত অর্থ কাটার আদেশ বাতিলের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে তারা বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। তাতেও কর্তৃপক্ষ নীরব থাকলে, ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা।

আরএস