নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

মানহীন খাবার বিক্রিকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে এলাকাবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৪, ০৬:৪৫ পিএম

ইফতারে মানহীন খাবার বিক্রিকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট সংলগ্ন ‘সারেং’ হোটেল থেকে কেনা ইফতারে মানহীন বেগুনি পাওয়ায় অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এরপর হোটেলের কর্মচারীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা বাকবিতণ্ডায় জড়ালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জি ঘটনাস্থলে এসে রাতে দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১১টার দিকে এলাকাবাসী একত্রিত হওয়ার খবর পেয়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা পাল্টা আক্রমণ করে। এ সময় হোটেলের গ্লাস ও আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় দফায় দফায় চলেছে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, রাস্তায় লাঠি হাতে শোডাউন এবং ইট ছোড়াছুড়ি চলে দীর্ঘক্ষণ।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা হলের রাস্তার পাশের কক্ষগুলোতে পাথর ছুঁড়ে মারে এলাকাবাসী। এতে কয়েকটি কক্ষের জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। এ ছাড়াও দ্বিতীয় গেট ও বটতলা সংলগ্ন শিক্ষার্থীদের মেসগুলোতে হামলা চালায় এলাকাবাসী। 

এরপর আরও উত্তেজিত হয়ে শিক্ষার্থীরাও হামলা চালায় ও কয়েক দফার হামলায় সারেং হোটেল ভাঙচুর করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে সার্কেল এএসপি (ত্রিশাল), ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জি জানান, যে অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্ভূত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো সেটি কাটিয়ে আমরা সুষ্ঠু পরিবেশে আছি।

এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুয়েল আহমেদ বলেন, হোটেলের খাবারের মানের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমার। এসব বিষয়ে আমরা যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেই। পরবর্তীতে আমাদের মনিটরিং থাকবে। এমন কোন অভিযোগ থাকলে আমাদের জানালে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা হয়েছে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে বলে মনে করছি না। তবুও পুলিশের টহলবাহিনী এখানে অবস্থান করবে।

এ ব্যাপারে সারেং হোটেলের মালিক ও পরিচালক সালাম মিয়া বলেন- বেগুনি পঁচা ছিল না, ইফতারের আগে তাড়াতাড়ি করায় একটু কম ভাজা হয়েছে। মূলত পূর্ববর্তী ঘটনার রেশ ধরে গতকাল আমার দোকানে কিছু শিক্ষার্থী প্রথম দফায় আমার হোটেলে ভাঙচুর এবং দ্বিতীয় দফায় আবারও ভাঙচুর ও ক্যাশ লুটপাট করে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানাই।

ইএইচ