বিপিএমসিএ

বেসরকারি মেডিকেলে শিক্ষার্থী সংকটের কারণ ভর্তিতে অটোমেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৪, ০৬:৫২ পিএম

বেসরকারি মেডিকেল কলেজে দেশের ভর্তি প্রক্রিয়ায় অটোমেশন শিক্ষার্থী সংকটের প্রধান কারণ বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)। তাদের দাবি, বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভর্তি প্রক্রিয়া অটোমেশন করা হয়েছে। কিন্তু এ পদ্ধতি হিতে বিপরীত হয়েছে। কারণ বাংলাদেশের বাস্তবতায় এর পরিবর্তন ও পরিবর্ধন প্রয়োজন।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় চলমান শিক্ষার্থী সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলা হয়েছে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিপিএমসিএ সভাপতি এম এ মুবিন খান।

তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী ঝরে যাচ্ছে। অনেকের ইচ্ছার বিপরীতে বিভিন্ন জায়গায় ভর্তি করায় ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের মনোযোগ হারিয়ে পড়াশুনো থেকে ঝরে যাচ্ছে। ভর্তি প্রক্রিয়া ডিজিটাল করতে গিয়ে অনেক জটিল প্রক্রিয়ার অবতারণা করা হচ্ছে, যার বলি হচ্ছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যবস্থা।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর এমবিসিএস কোর্সে ১১ হাজার ৫৮৮টি আসনে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজে সিট সংখ্যা ৫ হাজার ৩৮০টি। ৬৭টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ৬ হাজার ২০৮ টি। এর মধ্যে দেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ হাজার ৬৫৭টি আসন বরাদ্দ আছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দ আছে ২ হাজার ৫৫১ টি। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন। বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে ৭০ হাজার চিকিৎসকসহ ১০ লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান রয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১২ লাখ লোক বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে নিয়োজিত আছে। দেশে বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতের বিনিয়োগ ৩ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। এছাড়া স্বাস্থ্যখাতের মোট আর্থিক সংশ্লিষ্ট হচ্ছে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৬৭ টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে প্রায় ১২ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী এমবিবিএস পড়ছে। ফলে দেশে ২ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আসছে।বেসরকারি পর্যায়ের স্টেক হোল্ডারদের যৌক্তিক সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অটোমেশনের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারে না। এভাবে ছাত্র-ছাত্রীরা ঝরে যাচ্ছে। অটোমেশন চালুর দু’বছরে বেসরকারি কলেজে আবেদন পড়ে মোট সিটের সমপরিমাণ বা তার কিছু বেশি। এমনিতে বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীর আবেদনের সংখ্যা কম, তাহলে অটোমেশনের যৌক্তিকতা কি? বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির কোটা ৫০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে ২০০ কোটি টাকার অধিক রেমিটেন্স আসবে বলে দাবি তাদের।

সভাপতি এম এ মুবিন খান বলেন, বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য মাত্র ৭ দশমিক ২৬ জন ডাক্তার আছেন। যা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়। এ স্বল্প সংখ্যক ডাক্তার তৈরিতে বেসরকারি খাতের বড় অবদান রয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি পদ্ধতিগত ভুলের কারণে বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তিতে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।

অটোমেশনের নামে প্রাইভেট মেডিক্যাল সেক্টর ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, চলতি বছর বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ১ হাজার ২০০ সিট খালি রয়েছে। গত দু’বছরে ২০ শতাংশের ওপরে সিট খালি। এমনকি গরিব মেধাবী কোটায়ও ছাত্র-ছাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। অটোমেশনের কারণে শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. রোকেয়া সুলতানা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে আব্দুল মোমেন, সাবেক মুখ্য সচিব, আব্দুল করিম, সাচিপেরর সভাপতি অধ্যাপক জামালুদ্দিন, বিশ্ব ব্যাংকের সাউথ আফ্রিকার হেড অব এডুকেশন ড. মোখলেসুর রহমান, বিপিএমসিএ’র সভাপতি এম. এ. মুবিন খান, সাধারণ সম্পাদক ড. আনোয়ার হোসেন খান, ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান ড. শাহ্ মো. সেলিম, সংগঠনের সাবেক সভাপতি ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ হাবিবুল হক, পপুলার মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান, আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আফিকুর রহমান, সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. রিফায়েতউল্লাহ শরীফ, মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিনিধি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইমুম সাইরাস, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম প্রমুখ।

আরএস