সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণসহ নানা অনিয়মে অভিযুক্ত ও বিতর্কিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আব্দুস সামাদের পদত্যাগের দাবিতে ৮ম দিনের মতো বিক্ষোভ সমাবেশে উত্তাল ছিল অধিদপ্তরটি।
বৃহস্পতিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে চার থেকে পাঁচশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী এতে অংশ নেন।
বিক্ষুব্ধরা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কে ন্যূনতম কোন ধারণা না থাকা এই কর্মকর্তা বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এ কারণে তাকে প্রাথমিক শিক্ষার মহাপরিচালকের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ হতে অনতিবিলম্বে অপসারণ করে তার পরিবর্তে একজন শিক্ষাবান্ধব ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০ আগস্ট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আসেন এবং মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু সভায় মহাপরিচালক তার নির্বাচিত কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে গোপনে সব আয়োজন শেষ করেন। এ ছাড়া সভায় তিনি তার পছন্দের মাত্র ৬ জন ব্যক্তিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন, যাদের সবার কাছ থেকেই সভার দিন সকালবেলা বক্তব্যের স্ক্রিপ্ট জমা নেন।
স্থানীয় বিতর্কিত সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সুপারিশে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিন মাস হতে চললেও তিনি ছয়-সাত বছর ধরে একই শাখায় কাজ করা এবং বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সুবিধাভোগীদের এখনো বদলি করেননি। সব বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ ও পদলোভী কিছু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিনি তার মহাপরিচালক পদ ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
উক্ত সমাবেশে অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা মহাপরিচালকের অপসারণ চেয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা হলেন আব্দুর রেজ্জাক সিদ্দিকী (শিক্ষা অফিসার), নাসিমা বেগম (পরিচালক), আলেয়া ফেরদৌস শিখা (উপপরিচালক), আব্দুল আলীম (উপপরিচালক), নুরুল ইসলাম (উপপরিচালক), এনামুল হক (সহকারী পরিচালক), কর্মচারী সমিতির পক্ষ হতে খায়ের আহমদ মজুমদার (সাধারণ সম্পাদক), আব্দুল মতিন (সভাপতি), শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
বিআরইউ