মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই: যবিপ্রবি উপাচার্য

যশোর ব্যুরো প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৫, ০৮:১৭ পিএম

আধুনিক ও রোগমুক্ত জারবেরা ফুলের অনুচারা যশোরের গদখালির বাণিজ্যিক ফুলচাষীদের মাঝে বিতরণের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোমিক্স অ্যান্ড প্রোটিওমিক্স (জিইবিটি) বিভাগের ল্যাবরেটরি অব ফাংশনাল জিনোমিক্স অ্যান্ড প্রোটিওমিক্স।

অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও ঝিকরগাছা উপজেলার ফুলের রাজ্য খ্যাত গদখালির মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত বাণিজ্যিক ফুলচাষীরা অংশ নেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ।

উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুলের বাগান হলো যশোরের গদখালী। এখানে প্রায় চার হাজার বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষ হয়, যা দেশের ফুলের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে। কিন্তু এই সম্ভাবনাময় খাত নানা সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতায় জর্জরিত। তাই ফুলচাষীদের প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সচেষ্ট হতে হবে। এতে দেশীয় ফুলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সরবরাহ সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে পর্যাপ্ত গবেষণা ল্যাব থাকলেও দক্ষ ও মানসম্মত গবেষকের অভাব রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ গবেষক হওয়ার জন্য সর্বদা চেষ্টা করতে হবে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ফুলচাষী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। “আমাদের সবাইকে মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি শুধু জারবেরা নয়, অন্যান্য ফুলের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়েও গবেষণার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গদখালীতে ফুলচাষীদের সহযোগিতায় একটি গবেষণা ল্যাব স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন বলেন, জারবেরা ফুল মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় প্রজাতি। এটি “ট্রান্সভাল ডেইজি” বা “আফ্রিকান ডেইজি” নামেও পরিচিত। জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী ট্রাগোট জরবারের নামানুসারে ফুলটির নামকরণ করা হয়। ১৮৮৯ সালে এর প্রথম বৈজ্ঞানিক বর্ণনা তৈরি হয় এবং উজ্জ্বল রঙ ও বৈচিত্র্যের কারণে দ্রুতই সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতি লি. (জেএফএস)-এর সভাপতি মো. আব্দুর রহিম বলেন, গদখালীকে “ফুলের রাজধানী” বলা হয়। এখানে ১৯৮২ সাল থেকে বাণিজ্যিক ফুলচাষ শুরু হয়। ২০০৬ সাল থেকে আধুনিকভাবে জারবেরা চাষ শুরু হয়। বর্তমানে চারা ভারত থেকে আমদানি করতে হয়, যা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।

জেএফএস-এর সাধারণ সম্পাদক মীর ফারুখ আহম্মদ বলেন, “আমরা যবিপ্রবি থেকে কয়েক দফা অনুচারা সংগ্রহ করেছি। এগুলোর মান আমদানি করা চারার চেয়ে অনেক ভালো। যদি স্বল্পমূল্যে ও যথাসময়ে সরবরাহ পাওয়া যায়, তবে এটি চাষে বিপ্লব ঘটাবে এবং আমাদের ভোগান্তিও কমাবে।”

জারবেরা গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক ও জিইবিটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফ সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এই গবেষণার মাধ্যমে গদখালির ফুলচাষীদের সহযোগিতা করতে চায়। এর মাধ্যমে শুধু যশোর নয়, দেশের কৃষি উন্নয়নেও যবিপ্রবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, জিইবিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসান, জেএফএস-এর সদস্যবৃন্দসহ বাণিজ্যিক ফুলচাষী এবং জিইবিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পটির সহযোগী পরিচালক ও ল্যাব প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান। সঞ্চালনা করেন এমফিল শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তার।

ইএইচ