নীলফামারীতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

জবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫, ০৩:০৯ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে শ্রমিক হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ভাস্কর্য চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে মিছিল শেষ হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা "জয় জয় জয়, সর্বহারা" এবং "শ্রমিকের সংগ্রাম, চলছে চলবে" ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, একটি কোম্পানিতে ৩০ হাজারের অধিক শ্রমিকের মধ্যে তিন হাজার শ্রমিকের বেতন না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসাথে ভাতা পরিশোধের বিলম্ব, আবাসন ও পদোন্নতির জটিলতা, সকাল ৭টার আগে ডিউটি এবং গর্ভবতী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুবিধা না দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে হাবিব নামের একজন নিহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, এই ধরনের শ্রমিক হত্যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

নাট্যকলা বিভাগের ইমতিয়াজ আরেফিন সৌরভ বলেন, "ইতিপূর্বে রাবার বুলেট ব্যবহার হত, কিন্তু এখন বাস্তব বুলেট চালানো হচ্ছে। সরকার শ্রমিকদের ওপর দমননীতি চালাচ্ছে। যেই রাষ্ট্র শ্রমিককে মারে, সেই রাষ্ট্র ভেঙে দিতে হবে।"

ইন্ডিজেনাস পিপলস রাইটস ইউনিয়নের সদস্য নু মং প্রু মারমা জানান, "১ বছর পার হলেও শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়নি। উল্টো তাদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।"

বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সংগঠক অরুনাভ আশরাফ বলেন, "সেনাবাহিনী জনগণের উপর সহিংস হয়ে উঠছে। নীলফামারীর শ্রমিকদের অধিক বেতন দাবি করায় তাদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। আন্দোলনের সময় হাবিব নামের একজন নিহত হয়েছেন। এটি মানবতার পরিপন্থী। জনগণ নিজ দায়িত্বে এই শোষণ বন্ধ করবে।"

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ বলেন, "যুগের পর যুগ গেলেও শ্রমিকদের ভাগ্য অপরিবর্তিত। শ্রমজীবী মানুষের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে। তাই আমরা এই অবস্থান নিয়েছি। শ্রমিক হত্যার দায় এই সরকারকে নিতে হবে। সেনাশাসন ও সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে হবে।"

ইএইচ