ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ নিয়োগ বোর্ড বাতিল এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝালচত্বর বালি দিয়ে ভরাট এই তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের নিচতলায় অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচি শেষে উপ-উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য) অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীর কার্যালয়ে গিয়ে তারা দাবি আদায়ের আল্টিমেটাম দেন। এসময় শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের লোয়ার ও হায়ার বোর্ডের তালিকা প্রকাশের দাবিও জানান তারা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব, আবু দাউদ, আনারুল ইসলাম, রোকনউদ্দিন, সদস্য সাব্বির হোসেন, আবু সাইদ রনি, নূর উদ্দিন, রাফিজ, সাক্ষরসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।
এ সময় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাতও সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে গিয়ে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসন করা চলবে না। আওয়ামী দোসরদের সব জায়গা থেকে বিতাড়িত করতে হবে। প্রমোশন বোর্ড গঠন করে ফ্যাসিস্টদের প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। আমরা সাজিদ হত্যার বিচার চাই, যেকোনো মূল্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী, সে কোনো দলের না।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, আপনারা এমন ভাব দেখান, যেন কিছুই বোঝেন না। পড়ে আছেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পুনর্বাসন নিয়ে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের হায়ার বোর্ডে কারা রয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি সাংবাদিকরাও জানেন না। শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে ২৬ জন চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট রয়েছেন, তাদের সুযোগ দেওয়া কেন?
উপাচার্যকে ইসরায়েলের নেতানিয়াহুর সঙ্গে তুলনা করে সাহেদ আহম্মেদ আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের পাঁয়তারা চলছে, তা আমরা কখনো হতে দেব না। আপনারা তিন খলিফা জানেন না হয়তো, আপনাদের ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর সক্ষমতা আমাদের আছে। বিশ্ববিদ্যালয় যখন ৪৬ দিন উপাচার্যশূন্য ছিল, ৫ আগস্টের পর প্রশাসন ছিল না, তখনও বিশ্ববিদ্যালয় চলেছে।
তিনি আরও বলেন, ফোকলোর বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে ছাত্রলীগকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া 'ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট' বিভাগের নিয়োগ বোর্ডে ফ্যাসিস্ট অভিযোগে জড়িত এক চেয়ারম্যানকে সদস্য করা হয়েছে। আপনি ফ্যাসিস্টদের সাথে প্রেম করবেন, আর আমরা চুপ থাকবো তা হবে না।
সাজিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি চক্র আমাদের ভাই সাজিদকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। আমরা বারবার বিচার চেয়েছি, প্রশাসন বারবার আমাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। বর্তমান প্রশাসনের মতো অথর্ব, নির্লজ্জ, বেহায়া প্রশাসন আমরা আগে দেখিনি।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, আমার দায়িত্ব হলো, আপনাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো দাবি মেনে নেওয়ার ক্ষমতা রাখি না। আমি শুধু ভাইস চ্যান্সেলরের দেওয়া কাজ তামিল করি।
তিনি উপাচার্যের সঙ্গে ফোনালাপে ছাত্রদলের দাবিগুলো তুলে ধরেন। উপাচার্য রেজিস্ট্রারকে দিয়ে সিআইডির এসপি-কে চিঠি পাঠাতে বলেন এবং ঝালচত্বর বালি দিয়ে ভরাটের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। তবে
নিয়োগ বোর্ড বিষয়ে তিনি বলেন, আমার কাছে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি আসেনি, তাই এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই।
জেএইচআর