রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত ৩ জনসহ প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৮ শিক্ষার্থীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য (সাময়িকভাবে) বহিষ্কার করেছে। গুরুতর আহত শিক্ষার্থীরা হলেন পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী প্রান্ত, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুফ এবং মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী নিলয় সরকার।
সোমবার রাত সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে এমন তথ্য নিশ্চিত করেন বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী সাফায়েত হোসেন শুভ, শাহরিয়ার অপু, সজিব, সৌরভ, নাজমুজ সাকিব, রোহান সরকার রোহান, জিহাদ এবং ২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম।
এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় ঘটনার সূত্রপাত হয়। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মার্কেটিং, পরিসংখ্যান ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্ষিপ্ত হয়ে পরিসংখ্যান ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শ্রেণিকক্ষ ভাঙচুর করে। মারামারি, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আহত হন অন্তত ১০ শিক্ষার্থী।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান, রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশীদ, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. ইলিয়াস প্রামাণিকসহ তিন বিভাগের শিক্ষকেরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা লাঠিসোটা নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
পরে রাত ১১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জরুরি শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে উপাচার্য বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি— জিরো টলারেন্স। এই সব বিষয় আরও অধিকতর শনাক্ত করার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী আরও বলেন, “সহিংসতার বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। সহিংসতার আশ্রয় নিয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন। আমরা আপাতত আটজনকে বহিষ্কার করেছি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরে তার ভিত্তিতে বহিষ্কারের তালিকায় আরও শিক্ষার্থীর নাম যুক্ত হতে পারে এবং তাদের বিষয়ে স্থায়ীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
ইএইচ