বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের তিন দফা দাবিতে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
আজ আন্দোলনের নবম দিন এবং এর অংশ হিসেবে সোমবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বড় আকারের শিক্ষক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনার এলাকায় বাড়ছে শিক্ষকদের উপস্থিতি। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসছেন তারা। বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় এখন উৎসবমুখর কিন্তু প্রত্যাশামূলক পরিবেশ বিরাজ করছে।
রবিবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, সোমবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৃহৎ শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিক্ষক সমাজকে সমাবেশে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, আজ সকাল ১০টায় শহীদ মিনারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উপস্থিত থাকুন।
গতকাল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের আজিজী বলেন, আমাদের দাবিগুলো নিয়ে বিএনপির মহাসচিব আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলবেন। এছাড়া ২২ অক্টোবর তিনি শিক্ষকদের মাঝে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানিয়েছেন।
আজিজী আরও জানান, ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, তিনি কিছুটা সময় চেয়েছেন। তবে সোমবার শহীদ মিনারে লাখো শিক্ষক-কর্মচারীর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, চলমান আমরণ অনশন ও কর্মবিরতি কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না সরকার তাদের ন্যায্য দাবিগুলোর সমাধান দেয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ব্যানারে তিন দফা দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন শুরু করেন। তাদের দাবিগুলো হলো- মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা, উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ।
গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয় বাড়িভাড়া ভাতা মাত্র ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করলেও শিক্ষক সংগঠনগুলো সেটি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষকরা ‘ভুখা মিছিল’ নিয়ে শিক্ষা ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাইকোর্টের মাজার গেট এলাকায় তাদের আটকে দেয়। বিকেল ৫টার কিছু আগে তারা পুনরায় শহীদ মিনারে ফিরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
জেএইচআর