জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটি সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়। কাজ শুরুর ছয় মাস পার হলেও মাঠে চোখে পড়ছে না তেমন কোনো অগ্রগতি। ফলে খেলাধুলা ও অনুশীলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার কার্যক্রম চললেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মাঠে খেলাধুলা ও নিয়মিত অনুশীলন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এছাড়া পূর্বে মাঠের যে সৌন্দর্য ছিল, তা বলুর স্তুপের কারণে নষ্ট হয়েছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঠের বালু স্তূপ নিয়ে অনেকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও করছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনের পর্যাপ্ত তদারকি নেই এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ করছে ধীরগতিতে। পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় কাজ এগোচ্ছে “কচ্ছপগতিতে” বলে অভিযোগ তাদের।
পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও নিয়মিত খেলোয়াড় আরিফুল ইসলাম বলেন, “মাঠ ইস্যুতে আমরা বিরক্ত। গত ছয় মাসে বালু ফেলা ছাড়া কোনো অগ্রগতি নেই। ক্যাম্পাসে একটি মাত্র মাঠ, সেটিতেও খেলতে পারছি না। বিকল্প মাঠ না থাকায় খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। দ্রুত কাজ না হলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক মো. নাজমুল হাসান বলেন, “সম্প্রতি কন্ট্রাক্টর, ছাত্র প্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগের ঠিকাদারের দুর্বল কাজের কারণে বিল আটকে রাখা হয়েছে, নতুন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠ সংস্কার, ওয়াকওয়ে, সৌন্দর্যবর্ধন ও সড়ক নির্মাণসহ পুরো প্রকল্পে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে মাঠ সংস্কারে প্রয়োজনীয় অংশ ব্যয় করা হচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মোফাসিরুল ইসলাম বলেন, “মাঠের জন্য লাল ও সাদা বালুর মিশ্রণ ব্যবহার করা হচ্ছে। লাল বালু পঞ্চগড় থেকে আনতে সময় লাগছে। মিশ্রণ সম্পন্নের পর দুই মাসের মতো সময় লাগবে মাটি ভিজিয়ে স্থিতিশীল করতে, তারপর ঘাস বিছানো হবে। সব ঠিক থাকলে এক মাসের মধ্যেই মাঠ খেলার উপযোগী করা সম্ভব।”
প্রকৌশল দপ্তরের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “প্রথম পর্যায়ের কাজ বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়াই করা হয়েছিল। এখন বিকেএসপির (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) সুপারিশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। শুরু থেকেই যদি বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হতো, তাহলে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হতো।”
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাহাত হাসান দিদার বলেন, “বর্তমানে ডিজাইন অনুযায়ী শেষ স্তরের কাজ চলছে। বিকেএসপির পরামর্শ অনুযায়ী ঘাস লাগানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিকের কাজ পরিকল্পনাবিহীন ছিল, তবে এখন সবকিছু নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী এগোচ্ছে।”
তবে বর্তমান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘মাহবুবু এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক মুরাদ মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটি একসময় সবুজ ঘাসে পরিপূর্ণ সুন্দর একটি মাঠ ছিল বলে শিক্ষার্থীদের দাবি। সংস্কারের নামে মাঠের এমন বেহাল অবস্থা দেখে তারা আশাহত। খেলার জন্য উপযুক্ত সবুজ ঘাসে পরিপূর্ণ মাঠ দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন শিক্ষার্থীরা।
ইএইচ