বাকৃবির সাবেক শিক্ষার্থী জিল হোসেনের মামলায় দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের রায়

আব্দুল্লাহ আল আমীন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ১১:৩৫ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৬৭–৬৮ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী জিল হোসেনের দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের লড়াইয়ের অবসান ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুল, অন্যায় বহিষ্কার ও প্রশাসনিক গড়িমসির কারণে ক্ষতিপূরণ দাবিতে করা মামলায় আদালত চূড়ান্ত রায় দিয়েছে জিল হোসেনের পরিবারকে দুই কোটি টাকা দিতে হবে।

১৯৭৩ সালে অনার্সের একটি বিষয়ে মাত্র ‘০.৫ নম্বর’ যোগ না হওয়ায় তাকে ভুলভাবে ফেল দেখানো হয়। এক শিক্ষক স্বীকারও করেন এটি শিক্ষকদের ত্রুটি। পরে চার শিক্ষককে নিয়ে গঠিত একাডেমিক বোর্ডে দুইজন বলেন ফেলই থাকুক; আরেকটি পক্ষ যুক্তি দেন শিক্ষকের ভুলে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করা অনৈতিক। তবুও ফেলই বহাল থাকে।

এরপর বিভাগের কিছু শিক্ষকের বিরাগভাজন হয়ে ১৯৭৪ সালে তাকে ‘নকলের মিথ্যা অভিযোগে’ বহিষ্কার করা হয়। ১৯৭৬ সালে আদালত বহিষ্কার ও ফেল দুটি সিদ্ধান্তই অবৈধ ঘোষণা করে। বিশ্ববিদ্যালয় আপিল করলে সর্বোচ্চ আদালতও একই রায় বহাল রাখে।

তবুও দীর্ঘ গড়িমসির পর ১৯৯৬ সালে তার হাতে সার্টিফিকেট তুলে দিতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয়। তখন তার বয়স ছিল ৪৭ বছর। এরপর তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেন।

সম্প্রতি আদালতের চূড়ান্ত রায়ে বলা হয়েছে জিল হোসেনের পরিবারকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন এই অর্থ বহন করবে কে? বিশ্ববিদ্যালয় নাকি যেসব শিক্ষক ইগো আর ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর জীবন বিপর্যস্ত করেছিলেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায় আচরণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।