আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির ডাকা শাটডাউনের কারণে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) সশরীরে ক্লাস, পরীক্ষা ও পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
শনিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপদেষ্টা, প্রক্টরিয়াল বডি, পরিবহন প্রশাসন, বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি ও ক্লাস প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মিটিংয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সশরীরে ক্লাসের বিষয়ে সভাপতি ও ডিনরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্ম 'জুম'-এ ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ডাকা শাটডাউনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ব্যঙ্গ করে বলছেন, 'এটি আওয়ামী প্রশাসন'।
ছাত্রদল সভাপতি দুর্জয় শুভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, “দু'দিন পরপর লীগ হরতাল, অবরোধ, লকডাউন দিবে, তাই বলে দু'দিন পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ (প্রায়ই বন্ধই) থাকবে। সামনে শীতের ছুটি, নির্বাচন, মার্চে রোজা—শিক্ষার্থীরা কি সেমিস্টার শেষ করতে হবে? এইভাবে লীগের লকডাউন সফল করা, এটা কি জুলাই ২৪-এর রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রশাসন থেকে প্রত্যাশিত?”
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আজিজুর রহমান শান্ত বলেন, “সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগ শাটডাউনের কর্মসূচি পালন করছে গোবিপ্রবি প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ মধ্যরাতে প্রশাসন বাস চলাচল বন্ধ ও পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দেয়। আজ রাতে সকল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক ও সিআরদের নিয়ে মিটিং করে পরীক্ষা ও বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশে এর আগে হরতাল, অবরোধ, লকডাউন হয়নি। সরকার যেখানে পরিবহন চলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়, সেখানে গোবিপ্রবি প্রশাসন কেন পরিবহন বন্ধ রাখতে চায়? ক্লাস হবে! পরীক্ষা হবে! বাস চলবে! আওয়ামী শাটডাউন বয়কট।”
আল মাহমুদ নামক এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, “আওয়ামী প্রশাসন আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউনের কারণে প্রশাসন সশরীরে ক্লাস, পরীক্ষা ও পরিবহন সেবা বন্ধ রাখে।
ইএইচ