পদত্যাগ করেছেন ইবির জুলাই অভ্যুত্থান বিরোধী রিভিউ কমিটির ৩ শিক্ষক

ইবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২৫, ০৮:১৭ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই অভ্যুত্থান বিরোধী ভূমিকায় জড়িতদের বিরুদ্ধে গঠিত ৭ সদস্যবিশিষ্ট রিভিউ কমিটির আহ্বায়কসহ মোট তিন শিক্ষক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

পদত্যাগকারী তিন শিক্ষক হলেন, কমিটির আহ্বায়ক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. পারভেজ আজহারুল হক, এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সিনা, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।

সোমবার রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক পদত্যাগ করে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এ

ছাড়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সিনা জানিয়েছেন অসুস্থতার কারণে তিনি এ দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন না। এবং বায়োটেকের শিক্ষক মিজানুর রহমানও ব্যস্ততার কারণে এ দায়িত্ব পালন করবেন না বলে জানিয়েছেন। ভিসি স্যারকে পদত্যাগের বিষয়ে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত স্যারই নিবেন।

গত ১৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশের মাধ্যমে ৭ সদস্যবিশিষ্ট গঠিত কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ২৭১তম সাধারণ সভার ১২৩নং সিদ্ধান্ত [পরিশিষ্ট-১২৩(গ)] মোতাবেক জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বিপ্লব সময়কালীন ইবির শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্য হতে বিপ্লব বিরোধী ভূমিকায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন পর্যালোচনা, শাস্তির মাত্রা ও পরিমাণ নির্ধারণ এবং নতুন অভিযোগ গ্রহণ বিষয়ে উপাচার্য রিভিউ কমিটি গঠন করেছেন।

কমিটির বাকি সদস্য হিসেবে আরও রয়েছেন, ইবির আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির হুসাইন, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. জাফর উল্লাহ তালুকদার।

পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, দুইটা ডিপার্টমেন্টের কাজ করে কমিটিতে কাজ করার সময় একেবারেই নাই বলে পদত্যাগ করেছি। এছাড়া আমি আইন বিভাগের কেউ না, শাস্তির পর্যালোচনা করার কোনো অভিজ্ঞতাও আমার নাই।

কমিটির সদস্য আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সিনিয়র শিক্ষক রয়েছেন, তাদেরকে রেখে আমার মতো জুনিয়র শিক্ষককে এতো বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালন করবো কিনা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। আগামীকাল এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. পারভেজ আজহারুল হক বলেন, কমিটি গঠনের আগে আমাকে অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। একজন সিনিয়র অধ্যাপক কমিটিতে থাকার বিষয়ে অনুরোধ করেছিলেন। আমি বলেছিলাম, আমার শারীরিক অবস্থা ভালো না। এরপরও কমিটিতে আমাকে রাখা হয়েছে। অসুস্থতার কারণে এই মুহূর্তে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আমরা অনেকের সাথে কথা বলে কমিটি গঠন করেছি। এর মধ্যে কেউ পদত্যাগ করলে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

এর আগে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের চিহ্নিতকরণে গত ১৫ মার্চ পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় ১৯ শিক্ষক ও ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ৩৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কারের চিঠি দেওয়া হয়।

ইএইচ