ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ এবং এজিএস মহিউদ্দীন খান একই দিনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তেও তারা ভুলে যাননি সম্প্রতি নিহত সহযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে।
বিয়ের মঞ্চ থেকেই তারা হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর একটি মসজিদে এস এম ফরহাদ ও তার জীবনসঙ্গী চাকসু নেত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদার বিয়ে সম্পন্ন হয়।
একই দিনে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন মহিউদ্দীন খানও। পরে নিউ এলিফ্যান্ট রোডের একটি রেস্তোরাঁয় ঘরোয়া পরিবেশে উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বরের সাজে এস এম ফরহাদ ও মহিউদ্দীন খান হাতে ‘জাস্টিস ফর হাদি’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে ছবি তোলেন। বিয়ের আনন্দ ছাপিয়ে সহযোদ্ধার বিচারের দাবিতে তাদের এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের তার পোস্টে লিখেন, “বিয়ের অনুষ্ঠানেও সহযোদ্ধাকে না ভোলার জন্য ফরহাদ ও মহিউদ্দীনকে ধন্যবাদ। আমরা সবাই হাদি হব।”
এস এম ফরহাদ ও মহিউদ্দীন খান বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফরহাদ ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউট এবং মহিউদ্দীন ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে চলন্ত রিকশায় শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে এক দুর্বৃত্ত। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। ২০ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবির সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ইএইচ