জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আবাসিক হল থেকে ২০ বোতল বিদেশি মদসহ এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে হল প্রশাসন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শাখা ছাত্রদলের বর্ধিত কমিটির ২ নম্বর সদস্য বলে জানা গেছে।
রোববার রাত ৯টার দিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট ও হল সংসদ যৌথ অভিযান চালিয়ে ৭২৩ নম্বর কক্ষ থেকে এই মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম মো. ফজলে আজওয়াদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র। তবে তিনি অবৈধভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে অবস্থান করছিলেন।
জানা যায়, তিনি মীর মশাররফ হোসেন হল সংসদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন।
অভিযান পরিচালনা শেষে হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আজ রাত ৯টার দিকে একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা হল প্রশাসন ও হল সংসদের সদস্যরা ৭২৩ নম্বর রুমে অভিযান চালাই। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর টেবিলের লকার থেকে ৯ বোতল মাদক উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে খাটের নিচ থেকে আরও ১১ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে ১৭ বোতল ভদকা ও ৩ বোতল হুইস্কি রয়েছে।”
জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাড়ি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাটিয়া গ্রামে। এলাকাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় তিনি সহজেই অবৈধভাবে ভারত থেকে আসা মদ ক্রয় করে ক্যাম্পাসে বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন যে, তিনি নিজে পান করার জন্য এবং বন্ধুদের দেওয়ার জন্য এগুলো এনেছেন।
এদিকে অভিযুক্তের কিছু ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে জামসিং এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। ওই বাসাকে তিনি মাদক কারবারের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, “এই রুমে যাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তারা কেউ থাকেন না। আমরা জানতে পেরেছি অনেকেই এই রুমে এসে মাদক সেবন করেন। ফজলে আজওয়াদ মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও এখানে অবৈধভাবে থাকতেন। তদন্ত কমিটি গঠন করে ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ইএইচ