৫০তম বিসিএস প্রিলি

পরীক্ষা হলে প্রবেশ ও আসন বিন্যাসে পিএসসির কঠোর নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ফাইল ছবি

৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষাকে সামনে রেখে পরীক্ষার্থীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এবারের পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আসন বিন্যাস ও হাজিরা তালিকায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। পিএসসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। অন্যথায় দৈবচয়ন (Randomization) পদ্ধতিতে সাজানো আসন খুঁজে পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে পারেন পরীক্ষার্থীরা।

বিগত কয়েক বছরে বিসিএস পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা পার্শ্ববর্তী পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগসাজশ করে অসদুপায় অবলম্বনের কিছু অভিযোগ উঠেছিল। এই সমস্যা স্থায়ীভাবে দূর করতে ৫০তম বিসিএসে পিএসসি 'র‍্যান্ডমাইজেশন' বা দৈবচয়ন পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হাজিরা তালিকায় পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর আগের মতো ক্রমানুসারে সাজানো থাকবে না। পরিবর্তে, রেজিস্ট্রেশন নম্বরগুলো জোড়-বিজোড় (Even-Odd) ভিত্তিতে বিন্যস্ত করা হবে। এছাড়াও প্রতিটি কক্ষের জন্য আলাদাভাবে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এর ফলে একই প্রতিষ্ঠানের বা কাছাকাছি রেজিস্ট্রেশন নম্বরের দুজন বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তির পাশাপাশি বসার কোনো সুযোগ থাকবে না।

পিএসসি জানিয়েছে, দৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় আসন বিন্যাস করায় পরীক্ষার্থীদের নিজেদের সিট এবং কক্ষ খুঁজে পেতে সাধারণ সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। তাই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই হল বা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে হবে।

পিএসসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেহেতু আসন বিন্যাস এবার আর সনাতন পদ্ধতিতে নেই, তাই কোনো পরীক্ষার্থী শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রে পৌঁছালে নিজের সিট খুঁজে পেতে অস্থিরতায় পড়তে পারেন। এটি তাঁর পরীক্ষার পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মানসিক প্রশান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে আধা ঘণ্টা আগে পৌঁছানো বাধ্যতামূলক।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষের বাইরে যে হাজিরা তালিকা টানানো হবে, তাতে রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে না। পিএসসির সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নম্বরগুলো এলোমেলোভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরীক্ষা শুরুর আগে কোনো নির্দিষ্ট কক্ষে কে কার পাশে বসছেন, তা আগে থেকে জানার বা অনুমান করার কোনো পথ খোলা রাখেনি কমিশন।

পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রতিটি কেন্দ্রে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যামার বসানো হবে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের কানে কোনো ব্লুটুথ ডিভাইস বা ছোট হেডফোন আছে কি না, তা তল্লাশি করার জন্য বিশেষ মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে। পরীক্ষার্থীরা ঘড়ি, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে হলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না।

৫০তম বিসিএস বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে একটি বিশাল সুযোগ। এবার ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে রেকর্ড সংখ্যক শূন্যপদে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তাই আবেদনকারীর সংখ্যাও অন্যান্যবারের তুলনায় অনেক বেশি। পিএসসি চাইছে কোনো বিতর্ক ছাড়াই এই বিশাল কর্মযজ্ঞটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে।

বিসিএস পরীক্ষার মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে পিএসসির এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দৈবচয়ন পদ্ধতিতে আসন বিন্যাস করার ফলে মেধাবী ও পরিশ্রমী পরীক্ষার্থীরা একটি সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ পাবেন। তবে পরীক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, পিএসসির নতুন নিয়মে অভ্যস্ত হতে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশনাগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করা জরুরি।

আগামী পরীক্ষাগুলোতে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন কমিশনের মূল চ্যালেঞ্জ। ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা কেবল একটি নিয়োগ পরীক্ষা নয়, বরং এটি পিএসসির সক্ষমতা ও আধুনিকায়নের এক বড় পরীক্ষা।

এএন