রাবিপ্রবিতে শিক্ষা, গবেষণা ও পর্যটনের সমন্বয়ে গড়ে উঠছে ‘মিনি ট্যুরিজম হাব’

মহুয়া জান্নাত মনি, রাঙ্গামাটি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ও পর্যটনের এক অনন্য মেলবন্ধনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরেই ‘মিনি ট্যুরিজম হাব’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. আতিয়ার রহমান। একই সঙ্গে রাবিপ্রবিতে আয়োজিত হতে যাওয়া জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স-২০২৬-এর বিস্তারিত কর্মসূচিও তুলে ধরেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, ‘মিনি ট্যুরিজম হাব বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে একটি ছোট পরিসরের পর্যটন এলাকা তৈরি করা, যা একদিকে রাঙ্গামাটির পর্যটনকে সমৃদ্ধ করবে, অন্যদিকে শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে।

বুধবার সকাল ১১টায় রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবে রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উপাচার্য জানান, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ঘিরে পর্যটন ও শিক্ষার সমন্বিত একটি মডেল তৈরি করা।

তিনি বলেন, প্রথমত এটি হবে একটি বিশেষায়িত পর্যটন কেন্দ্র। কাপ্তাই হ্রদের পাশ ও পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত হওয়ায় রাবিপ্রবি ক্যাম্পাস নিজেই একটি দর্শনীয় স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের জন্য পরিকল্পিত ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে, যাতে সুশৃঙ্খলভাবে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।

দ্বিতীয়ত, এটি হবে হাতে-কলমে শিক্ষার কেন্দ্র। রাবিপ্রবিতে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাসে ট্যুরিজম হাব থাকলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সরাসরি ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে।

তৃতীয়ত, স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে। হাবের মাধ্যমে রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও হস্তশিল্প প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে পর্যটকরা এক জায়গাতেই পাহাড়ি অঞ্চলের বৈচিত্র সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হবে।

চতুর্থত, এটি হবে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের একটি উদাহরণ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন পর্যটন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করবে, যা পরিবেশের ক্ষতি করে না। এই ইকো-ফ্রেন্ডলি হাব ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে। এক কথায়, রাবিপ্রবিকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটির পর্যটন উন্নয়নে একটি ছোট, আধুনিক, শিক্ষাভিত্তিক ও টেকসই পর্যটন কেন্দ্র গড়াই এই ‘মিনি ট্যুরিজম হাব-এর মূল লক্ষ্য।

মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে রাবিপ্রবির ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও কনফারেন্সের সভাপতি ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কনফারেন্সের সদস্য-সচিব জি এম সেলিম আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স-২০২৬। রাবিপ্রবির ১২ বছরের পথ চলায় এটি একটি ঐতিহাসিক আয়োজন। শুধু রাবিপ্রবি নয়, গোটা পার্বত্য অঞ্চলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাঙ্গামাটিতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে, জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স, যেখানে মূল আয়োজক হিসেবে রাবিপ্রবির সঙ্গে যুক্ত থাকবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ৭০টিরও বেশি গবেষক তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন। প্রথম দিন ১৬ জানুয়ারি দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি জানিয়েছেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান।

"পর্যটন: প্রকৃতির পরবর্তী অন্বেষণ" শীর্ষক প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই কনফারেন্সের প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রাখবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. ফরিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. সাইফুল ইসলাম।

দ্বিতীয় দিন সকাল ৯টা থেকে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে কী-নোট স্পিচ, ওরাল ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন এবং সমাপনী অনুষ্ঠান। আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই সম্মেলন ও ‘মিনি ট্যুরিজম হাব উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এএন