ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

ইবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কর্মরত অবস্থায় অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মচারী কর্তৃক সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব ও গ্রিন ফোরামের যৌথ আয়োজনে এই মানববন্ধন পালিত হয়।

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক। এছাড়াও প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নিহত শিক্ষিকার পরিবার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন। শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরাও মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে গ্রিন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দ্রুততম সময়ে রুনা হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারে প্রত্যেকের ডাটা সংগ্রহ ও ইউনিক আইডেন্টিটির ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।

জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের ওপর হামলার কোনো বিচার না হওয়ার ধারাবাহিকতায় আজ এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। উপাচার্য মহোদয়কে অনুরোধ করব, এই খুনের বিচারের জন্য সর্বোচ্চ প্রশাসনিক তৎপরতা চালান, প্রয়োজনে আমরা রাজপথে নামব।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, দল-মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত রিপোর্ট প্রদানের চেষ্টা করব। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারলে ভর্তি পরীক্ষার পরে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি কাজ করছে। অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে কোনো কার্পণ্য করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানো হবে।

জেএইচআর