গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশনে বসা তিন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু ছবি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বা সম্পাদিত বলে প্রমাণিত হয়েছে।
গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে অনশন শুরু করেন ওই শিক্ষার্থীরা। টানা ৬৮ ঘণ্টার বেশি সময় অনশন চলায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, অনশনরত শিক্ষার্থীরা গোপনে আপেল ও জুস গ্রহণ করছেন। তবে ফ্যাক্টচেকিংয়ে এসব দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর যাচাই অনুযায়ী, ছড়ানো ছবিগুলো বাস্তব নয়; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে।
যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি ছবিতে আপেল সংযোজনের দাবি করা হলেও রিভার্স ইমেজ সার্চে মূল ছবিতে এমন কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি। ফলে এটি ডিজিটালভাবে পরিবর্তিত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অন্যদিকে ‘চলছে ফ্রুটিকা অনশন’ শিরোনামে ছড়ানো আরেকটি ছবিও এআই-নির্মিত বলে শনাক্ত করেছে বিভিন্ন টুল। গুগলের এআই শনাক্তকারী প্রযুক্তি এবং ‘হাইভ মডারেশন’ বিশ্লেষণেও ছবিগুলোকে কৃত্রিমভাবে তৈরি বা সম্পাদিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ছবিতে ব্যবহৃত কিছু টাইমস্ট্যাম্প ও ভিজ্যুয়াল উপাদান বাস্তব সময় ফরম্যাটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যা এআই সম্পাদনার ইঙ্গিত দেয়।
সব মিলিয়ে যাচাইয়ে নিশ্চিত হয়েছে, অনশনরত শিক্ষার্থীদের গোপনে খাবার গ্রহণের যে দাবি ও ছবি ছড়ানো হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর এবং এআই প্রযুক্তিনির্ভর।
এএন