এসএসসি পরীক্ষায় নকল ও অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নতুন নীতিমালায় ২০ ধরনের কার্যকলাপকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন মাত্রার শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এসব অপরাধে সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হতে পারে।
বোর্ডের প্রকাশিত ‘এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী, অপরাধের ধরনভেদে শাস্তিও ভাগ করা হয়েছে তিনটি স্তরে।
প্রথম স্তরে রয়েছে তুলনামূলক কম গুরুতর ৫টি অপরাধ, যেখানে শাস্তি হিসেবে শুধু ওই বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে। যেমন পরীক্ষা কক্ষে অন্যের সঙ্গে কথা বলা, এদিক-ওদিক তাকানো, নিষিদ্ধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখা বা তা দেখে লেখা, লিখোকোড পরিবর্তন কিংবা অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে নকল করতে সহায়তা করলেও একই শাস্তির আওতায় পড়বে।
এছাড়া ডেস্ক, বেঞ্চ, দেয়াল, হাত বা পোশাকে বিষয়ভিত্তিক কোনো লেখা থাকলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সেসব লেখা থেকে নকলের প্রমাণ মিললে তা লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় স্তরে ৮ ধরনের অপরাধের জন্য ওই বছরের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে- অন্যকে নকল করতে সহায়তা করা, মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে তথ্য রাখা, উত্তরপত্রে আপত্তিকর মন্তব্য লেখা, পরীক্ষা কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, নিষিদ্ধ কাগজপত্র লুকানো বা নষ্ট করা, একই খাতায় ভিন্ন হাতের লেখা থাকা, প্রশ্নপত্র বাইরে পাচার করা এবং কর্তব্যরত শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করা।
সবচেয়ে গুরুতর ৭টি অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর। এসব অপরাধে পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। গুরুতর অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তরপত্র জমা না দিয়ে বের হয়ে যাওয়া, রোল নম্বর পরিবর্তন, উত্তরপত্র বদল বা হস্তক্ষেপ, খাতার পৃষ্ঠা পরিবর্তন, পরীক্ষা কেন্দ্রে বা বাইরে হামলা বা হামলার চেষ্টা, অস্ত্র প্রদর্শন এবং অন্যের লেখা উত্তরপত্র জমা দেওয়া।
শিক্ষা বোর্ডের এই নতুন নীতিমালা পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং নকলমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এএন