যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্যের মতবিনিময় সভায় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। হট্টগোলের একপর্যায়ে মতবিনিময় সভা শেষ না করেই সভাস্থল ত্যাগ করেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।
শনিবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শরীফ হোসেন গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নতুন উপাচার্যের পূর্বনির্ধারিত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মতবিনিময় সভায় সময় সংক্ষেপের বিষয়ে জানিয়ে ছাত্রদলপন্থী এক শিক্ষার্থীর বক্তব্যের সময় দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের সময় ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরাও আপত্তি জানিয়ে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি চাইলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বৃহৎ অংশ চায় পূর্বে যেমন ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল, তেমনই থাকবে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ। একপর্যায়ে মতবিনিময় সভা শেষ না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন যবিপ্রবি উপাচার্য।
পরবর্তীতে মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ‘ভিসি স্যারের অপমান, সইবো না, সইবো না’, ‘ক্যাম্পাসে মববাজি চলবে না, চলবে না’ বলে নানা স্লোগান দেয়। এদিকে শিক্ষার্থীদের অপরাংশও প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নেয়। এতে ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এসময় ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা জানান, আজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের নতুন মাননীয় উপাচার্য স্যারের একটি মতবিনিময় সভা ছিল। সেখানে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। সেখানে একজন গ্যালারির দরজা বন্ধ করে আমাদের সহ নবনিযুক্ত উপাচার্য স্যারকে জিম্মি করে রাখে। উপাচার্যের কথা শেষে আমাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। আমরা কথা বলছিলাম, সে সময় পুরো গ্যালারির শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ বলে আওয়াজ তোলে এবং রাজনীতি চাই না বলে তারা আমাদের দিকে মারমুখী হয়ে এগিয়ে আসে এবং মব সৃষ্টি করার পায়তারা করে। আমরা এই মব কালচারের বিচার চাই এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে মববাজদের বিচার না করলে যবিপ্রবি ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে।
এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, আজ মাননীয় উপাচার্যের সঙ্গে মতবিনিময় সভার মধ্যে একটি গোষ্ঠী অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, তখন উপাচার্য স্যার উঠে যেতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে যে দাবিগুলো ছিল, সে বিষয়ে জানতে চাইলে স্যার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্ররাজনীতির পূর্বের যে আইন রয়েছে, তা বহাল থাকবে। নীতিমালার বাইরে কিছু ঘটলে প্রশাসনের কাছে দাবি জানালে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। শিক্ষার্থীদের তার ওপর আস্থা রাখতে বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে স্যার সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবেন, পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধেও অবস্থান থাকবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এই ক্যাম্পাসে সকল প্রকার দলীয় রাজনীতি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এরই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ব্যানার বা প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কোনো সুযোগ এখানে নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সকল প্রকার বিশৃঙ্খল আচরণ ও মববাজি দ্রুত সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, যবিপ্রবির ১০৩তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়াও যবিপ্রবির সকল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘Rules of Discipline for Students’ এর Part-1 এর General Rules এর ধারা এবং কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ‘যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১’ এর ধারা ৪৭ (৫) এবং ‘সাধারণ আচরণ, শৃঙ্খলা ও আপিল সংক্রান্ত বিধি’ যথাযথ অনুসরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। উক্ত আইন ও বিধি অমান্য করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক শাস্তি প্রদান করা হবে বলেও জানানো হয়।
এএন