রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত পোস্টার ও দেয়াল লিখন দেখা গেছে।
শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়ক এবং মুন্সি মেহেরুল্লাহ ও শহীদ মশিউর রহমান হলের দেয়ালে এসব কার্যক্রম সাধারণ শিক্ষার্থীদের নজরে আসে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হলের দেয়াল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু”, “শেখ হাসিনা আসছে, বাংলাদেশ কাঁপছে” এবং “শিবিরের হাত থেকে যবিপ্রবি বাঁচাও”-সহ নানা ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান লেখা হয়েছে। ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ সত্ত্বা হিসেবে ঘোষণা করার পরও ক্যাম্পাসে তাদের এমন তৎপরতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই ঘটনাকে প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাফি বলেন, রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে জুলাই বিপ্লবের ক্যালিগ্রাফির ওপর এমন আক্রমণ মেনে নেওয়া যায় না। সিসিটিভি থাকা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা কীভাবে এসব করছে তা রহস্যজনক। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা বুঝবো তারা ছাত্রলীগের মদদপুষ্ট।
ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান নিশাত বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য নিষিদ্ধ হওয়া একটি সংগঠনের এমন তৎপরতা প্রতিহত করতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রস্তুত রয়েছে।
এ বিষয়ে যবিপ্রবি প্রক্টর হামিদুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। হল প্রভোস্টদের সাথে আলোচনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুন্সি মেহেরুল্লাহ হলের প্রভোস্ট ড. মো. আব্দুর রউফ সরকার জানান, বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। তবে হলের সব তলায় সিসিটিভি না থাকায় শনাক্তকরণে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, শহীদ মশিউর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামান জানান, কারা এর সাথে যুক্ত তা তদন্ত করতে দ্রুত একটি কমিটি গঠন করা হবে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯’ অনুযায়ী বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং তাদের নিষিদ্ধ সত্ত্বা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
জেএইচআর