প্রযুক্তি শুধু ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ওপর জোর দিয়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “তোমাদের কাজ হবে বিজ্ঞানকে প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা। প্রকৌশলী হিসেবে নিজেদেরকে নতুন নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে। আমরা শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকব না, প্রযুক্তি তৈরি করব, প্রযুক্তি রপ্তানি করব। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য যাদের সবচেয়ে বেশি দরকার, তারা হচ্ছে প্রকৌশলী শিক্ষার্থীরা।”
শনিবার রুয়েটের অডিটোরিয়ামে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনটি অনুষদের ১৪টি বিভাগের মোট ১ হাজার ২৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। রোববার থেকে রুয়েটে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে।
ছাত্রজীবনের গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, “লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এখনই, অর্থাৎ আগামী চার বছর। প্রস্তুতি নিতে যদি তুমি ব্যর্থ হও, তবে ব্যর্থতাকে বরণ করে নিতে তুমি প্রস্তুতি নিচ্ছ। একজন ভালো প্রকৌশলী হওয়ার পাশাপাশি সুনাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে। রুয়েটের পাশাপাশি আমাদের দেশের সুনাম ও গৌরব তোমাদের হাতেই নির্ভর করছে।”
এ সময় অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “আজ সন্তানদের এই পর্যায়ে নিয়ে আসার পেছনে আপনাদের অবদানই সবচেয়ে বেশি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, “নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ছাত্রকল্যাণ দপ্তর কাজ করে চলেছে। ক্যাম্পাসে র্যাগিং ও বুলিংবিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমাসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্রীদের শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা গেছে এবং ছাত্রদের ৮০ ভাগ আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামসহ ১৪টি বিভাগের প্রধানরা।
রুয়েটের তিনটি প্রকৌশল অনুষদের ১৪টি বিভাগের বিপরীতে মোট ১ হাজার ২৩০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে সিএসই, ইইই, সিই ও এমই বিভাগে ১৮০টি করে, এমটিই, সিএমই, আইপিই, এমএসই, ইউআরপি, ইসিই ও ইটিই বিভাগে ৬০টি করে এবং আর্ক, সিএইচই ও ইসিএম বিভাগে ৩০টি করে আসন রয়েছে। এবার প্রথম বর্ষে ১ হাজার ২৩৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। রোববার (১০ মে) থেকে তাদের ক্লাস শুরু হবে।
এএন