প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খাবার সরবরাহ নিয়ে কঠোর নির্দেশনা 

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে নতুন করে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। কর্মসূচির আওতায় নিম্নমানের, পচা বা নষ্ট খাবার সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এর আগে ১৩ মে জারি করা অফিস আদেশের বিষয়টিও এতে উল্লেখ করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পচা বনরুটি, নষ্ট ডিম এবং ছোট বা পচা কলা বিতরণের মতো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং পুরো কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সরবরাহকৃত খাবার গ্রহণের আগে তার মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না তা অবশ্যই যাচাই করতে হবে। খাবার নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী গ্রহণ ও বিতরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতিও অনুসরণ করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বনরুটি অবশ্যই তাজা, নরম এবং যথাযথভাবে মোড়কজাত হতে হবে। প্যাকেট অক্ষত থাকা বাধ্যতামূলক, এবং সেখানে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ নেট ওজন (১২০ গ্রাম) উল্লেখ থাকতে হবে।

ডিমের ক্ষেত্রে ফাটা, দুর্গন্ধযুক্ত বা পিচ্ছিল ডিম গ্রহণ ও বিতরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কলা হতে হবে দাগহীন ও পোকামুক্ত; অতিরিক্ত পাকা বা পচা কলা কোনোভাবেই দেওয়া যাবে না।

এছাড়া ইউএইচটি দুধ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ বিস্কুটের ক্ষেত্রেও প্যাকেটের গুণগত মান, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন সঠিকভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ খাবার কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এম জি