ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের একটি দোকানে পা তুলে বসা নিয়ে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনের মধ্যে তিনজনই ছাত্রদলের পদধারী নেতা। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে অভিযুক্ত ওই তিন নেতাকে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মল্লিক ওয়াসী উদ্দিন তামী স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জগন্নাথ হল শাখার তিন যুগ্ম-আহ্বায়ক চন্দন দাস, ঝলক দাস এবং রিপন চন্দ্র সরকারকে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
এর আগে গত রবিবার (২৪ মে) হলের একটি দোকানে বসা নিয়ে প্রতিবন্ধী ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নিজের কক্ষে ফিরলে সেখানে গিয়ে তাঁকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, ওই দিন সন্ধ্যায় রবীন্দ্র ভবনের নিচে মনশ্রী হালদারের চায়ের দোকানে পা তুলে বসে থাকার মতো একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ঝামেলার সূত্রপাত। অভিযুক্ত চন্দন দাস (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ, ফ্রেঞ্চ ল্যাংগুয়েজ), ঝলক দাস (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, জাপানিজ স্টাডিস), রিপন (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, মার্কেটিং) ও সাগর (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, ম্যানেজমেন্ট) তাঁর রুমে এসে তাঁকে মারধর করেন।
তিনি আরও জানান, শুরুতে দোকানে যখন কেউ ছিল না, তখন পায়ে সমস্যা থাকার কারণে তিনি বেঞ্চে পা তুলে বসেছিলেন। ওই সময় চন্দন ও ঝলক দোকানে আসেন। তিনি পা কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার পর বসার পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও চন্দন তাঁকে পা নামাতে বলেন এবং রুমে গিয়ে পা তোলার খোঁচা দিয়ে কথা বলেন। পরে অন্য পায়ে সমস্যা বেশি থাকায় তিনি একটি পা নিচে নামিয়ে রাখেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দোকানে ঝলকের সঙ্গে তাঁর কোনো কথাই হয়নি। পরবর্তীতে তিনি নিজের রুমে ফিরে একবার আনন্দ বাজার গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই চন্দন, ঝলক দাস, রিপন ও সৌরভ নামের চারজন রুমে ঢুকে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং থাপ্পড় মারেন। সেই সঙ্গে তাঁকে আর কখনো চায়ের দোকান বা নিচে না নামার হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর কক্ষে ঢুকে এভাবে মারধর করা শুধু অমানবিকই নয়, এটি জগন্নাথ হলের পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট দেবাশীষ পাল বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই রাতেই আমাকে জানানো হয়েছে। আমি ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. শিমুল হালদারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষকদের এই কমিটিতে রাখা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কমিটি রিপোর্ট জমা দিলে তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এএন