কী কারণে সৌদিতে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার?

সৌদি আরব প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৫, ০৫:৩৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির ভিত্তিতে এই খবর জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৪ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে মোট ২২,২২২ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থা।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে—১৩,৫৫১ জন আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে, ৪,৬৬৫ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে, ৪,০৬০ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২০ হাজার জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর আগে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১২,৯২০ জনকে ইতোমধ্যেই সৌদি আরব থেকে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের সময় ১,৭৮৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইথিওপিয়ান ও ইয়েমেনি নাগরিকদের সংখ্যা বেশি। এছাড়া, অবৈধভাবে দেশ ত্যাগের সময় আরও ৩৩ জন প্রবাসীকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া, আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন ও আশ্রয় দেওয়ায় ১৮ জন সৌদি নাগরিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে ২৫,৯২১ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন, যার মধ্যে ২৩,৪১৯ জন পুরুষ ও ২,৫০২ জন নারী।

সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে প্রবেশে সহায়তার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে এই বিষয়ে সতর্কতা জারি করে আসছে।

মরু অঞ্চলের দেশ সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষ বসবাস করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক এখানে কর্মরত রয়েছেন। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম নিয়মিতভাবে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করছে।

ইএইচ