ফ্রান্সে নিহত মহাদেব ঘোষের মরদেহ দেশের পথে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ১২:০১ এএম

ফ্রান্সের প্যারিসে রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মহাদেব ঘোষের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় প্যারিস থেকে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে মরদেহ পাঠানো হয়।

আগামী রোববার ভোরে মরদেহটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

গত ৪ মে বৃহত্তর প্যারিসের ৭৮ নম্বর বিভাগের জু-আঁ-জোসাস এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে ২৩ বছর বয়সী মহাদেব ঘোষের মরদেহ উদ্ধার করে ফরাসি পুলিশ। ঘটনার পর প্রথমে মৃত্যুর বিষয়টি অস্বাভাবিক হিসেবে তদন্ত শুরু হলেও পরে ফরাসি কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ফ্রান্স পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের সময় কক্ষে কোনো ধরনের সংঘর্ষ, সহিংসতা বা জোরপূর্বক প্রবেশের আলামত পাওয়া যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর পেছনে অপরাধমূলক কোনো প্রমাণ মেলেনি।

মহাদেব ঘোষ ফ্রান্সের খ্যাতনামা ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এইচইসি প্যারিসে এমবিএ অধ্যয়ন করছিলেন। এর আগে তিনি কিংস কলেজ লন্ডন থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ইতালিতে একটি স্বল্পমেয়াদি কোর্স সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার জন্য প্যারিসে যান।

শুধু শিক্ষাজীবনেই নয়, লেখালেখিতেও সক্রিয় ছিলেন মহাদেব। বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রাজনীতি ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে নিয়মিত লিখতেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মহাদেব ঝিনাইদহ জেলার কাটালাগাড়ি বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাবেক কৃষি সচিব ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শ্যামল কান্তি ঘোষ এবং সাগরদীপা ঘোষ রায় দম্পতির সন্তান। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, উচ্চশিক্ষা শেষে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন তিনি। সেই স্বপ্ন নিয়েই সম্প্রতি ফ্রান্সে পাড়ি জমান।

মরদেহ দেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি অনুমোদন দিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। জু-আঁ-জোসাস সিটি হল থেকে মৃত্যুসনদ ইস্যু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুত সময়ের মধ্যে অনাপত্তিপত্র প্রদানসহ সার্বিক সহায়তা করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে মরদেহ প্রেরণকারী সংস্থা ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মরদেহ বুঝে নেয়। পরে সেটি প্যারিসের শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয় মরদেহ।

ফ্রান্সে অধ্যয়নরত এক তরুণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফ্রান্স-বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, ফ্রান্সে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক এবং ফ্রান্সে বাংলাদেশ কমিউনিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

এম জি