প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর সর্বশেষ ‘মন কি বাত’এ ওডিশার কোরাপুট কফির প্রশংসা করে বলেছেন, ভারতের পূর্বঘাট অঞ্চলের এই কফি এখন কেবল স্বাদের দিক থেকে নয়, সামাজিক রূপান্তরের প্রতীকও হয়ে উঠেছে।
মোদি বলেন, 'অনেকেই আমাকে বলেছেন, কোরাপুটের কফির স্বাদ অসাধারণ। কিন্তু এই গল্প শুধু স্বাদের নয়-এই কফি চাষ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।'
তিনি জানান, কোরাপুটের বহু মানুষ নিজেদের পেশা ছেড়ে কফি চাষে যুক্ত হয়েছেন। অনেকে কর্পোরেট দুনিয়ায় ভালো চাকরি করতেন। কিন্তু কফির প্রতি ভালোবাসা থেকে তাঁরা এই ক্ষেত্রে নেমেছেন, এবং আজ সফল কৃষক হয়ে উঠেছেন।
মোদি আরও জানান, কফি চাষে কোরাপুটের অনেক নারীর জীবন বদলে গেছে। তাঁরা এখন সম্মান ও স্বচ্ছলতা-দুটোই অর্জন করেছেন।
কোরাপুটের কফি মূলত আরবিকা প্রজাতির, যা ছায়ায় বেড়ে ওঠে এবং স্থানীয় আদিবাসী কৃষকেরা জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদন করেন। এর স্বকীয় স্বাদ ও গুণগত মানের জন্য ইতিমধ্যেই ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে জায়গা করে নিয়েছে 'কোরাপুট কফি'।
মোদি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছর আমরা অরাকু কফির কথা বলেছিলাম। এবার কোরাপুট কফি ভারতের আরেকটি গর্বের নাম হয়ে উঠেছে। সত্যিই, কোরাপুট কফি অপূর্ব স্বাদের-এটি ওডিশার গর্ব।
ভারতকে সাধারণত চায়ের দেশ বলা হলেও, কফির ঐতিহ্যও কম নয়-বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চিকমাগালুর, কুর্গ, হাসান, পুলনি, শেভরয়, নীলগিরি, বিলিগিরি, ওয়াইনাড, ত্রিবাঙ্কোর ও মালাবার-এসব অঞ্চলে কফি চাষের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এখন নতুন নতুন সীমান্ত খুলছে, যেমন কোরাপুট এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলগুলো।
মোদি আরও যোগ করেন, 'ভারতের কফি এখন গোটা বিশ্বের প্রিয় পানীয় হয়ে উঠছে। তাই কফি প্রেমীরা বলেন, ভারতের কফি হলো কফির সেরা রূপ- ভারতে প্রস্তুত, সারা বিশ্বের প্রিয়।
বর্তমানে ভারতের মোট কফি উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে কর্ণাটক থেকে, তবে ওডিশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো দ্রুতই নতুন কফি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
কোরাপুট কফি প্রকল্পটি মূলত ওডিশা লিভলিহুড মিশন ও ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেটিভ-এর সহায়তায় শুরু হয়। এর উদ্দেশ্য-টেকসই কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করা।
জেএইচআর