৯ বছরের প্রেম, ২ মাসের সংসার

উত্তরপ্রদেশে স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ‘আত্মহত্যার নাটক’ স্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

দীর্ঘ ৯ বছরের নিবিড় প্রেমের সম্পর্ক। ছাত্রজীবন থেকে শুরু হওয়া সেই ভালোবাসার পরিণতি হয়েছিল ছাদনাতলায়। দুই পরিবারের সম্মতিতে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের মাত্র দুই মাস পেরোতেই সেই বাসরঘর রূপ নিলো রণক্ষেত্রে। ভারতের উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে স্ত্রী জ্যোতির হাতে নৃশংসভাবে খুন হলেন স্বামী জিতেন্দ্র কুমার যাদব (৩৩)। কেবল খুনেই ক্ষান্ত হননি জ্যোতি, নিজের বাবা-মা ও ভাইকে সাথে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের পর মৃতদেহ ঝুলিয়ে দিয়ে ‘আত্মহত্যার নাটক’ সাজানোরও চেষ্টা করেছেন তিনি।

সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই রোমহর্ষক ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্ত্রী ও তাঁর বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জিতেন্দ্র ও জ্যোতির পরিচয় কলেজ জীবন থেকে। দীর্ঘ ৯ বছর একে অপরকে চেনার পর গত বছরের ২৫ নভেম্বর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বরেলির ইজ্জতনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে সংসার শুরু করেছিলেন এই দম্পতি। কিন্তু বিয়ের কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই তাদের রূপকথার মতো সংসারে ফাটল ধরে।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, বিয়ের পর থেকেই আর্থিক বিষয় নিয়ে জিতেন্দ্র ও জ্যোতির মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়। ছোটখাটো বিষয়ে ঝগড়া শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় রূপ নেয়। গত সপ্তাহে সেই বিরোধ চরম সীমায় পৌঁছালে জ্যোতি তাঁর পরিবারের সদস্যদের ডেকে পাঠান এবং সকলে মিলে জিতেন্দ্রকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

রোববার রাতে ইজ্জতনগরের ঐ ভাড়া বাড়ি থেকে জিতেন্দ্রর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জ্যোতি ও তাঁর পরিবার প্রতিবেশীদের কাছে দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জেরে জিতেন্দ্র গলায় মাফলার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের সন্দেহ হয়। জানলার গ্রিলের উচ্চতা এবং মরদেহের অবস্থানের মধ্যে অসংগতি লক্ষ্য করেন তদন্তকারীরা।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ বিষয়টিকে আত্মহত্যার প্ররোচনা হিসেবে মামলা নিলেও জিতেন্দ্রর ভাই অজয় কুমারের জোরালো অভিযোগের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত করা হয়। রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়, জিতেন্দ্রর মৃত্যু ঝুলে থাকার কারণে হয়নি, বরং তাঁকে অত্যন্ত শক্তভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা (Manual Strangulation) করা হয়েছে। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ মাফলার দিয়ে জানলার গ্রিলে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর পুলিশি জেরার মুখে ভেঙে পড়েন জ্যোতি। তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি নিজে জিতেন্দ্রর গলা টিপে ধরেন এবং এ সময় তাঁর বাবা, মা ও ভাই জিতেন্দ্রর হাত-পা চেপে ধরে সহায়তা করেন।

গ্রেপ্তার: পুলিশ ইতিমধ্যেই জ্যোতি, তাঁর বাবা ও মাকে গ্রেপ্তার করেছে।

পলাতক: জ্যোতির ভাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, তাকে ধরতে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে বরেলি পুলিশ।

৯ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের এমন বিভীষিকাময় সমাপ্তি বরেলির স্থানীয় বাসিন্দাদের হতবাক করে দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এএন