এএপস্টেইন নথিতে বিল গেটস

জবাবদিহি তাঁরই করতে হবে, বিস্ফোরক মেলিন্ডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথির বিশাল স্তূপ থেকে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। এবার সেই নথিতে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নাম উঠে আসায় মুখ খুলেছেন তাঁর সাবেক স্ত্রী ও বিশিষ্ট সমাজসেবী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস। 

তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কমা এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার যে প্রশ্নগুলো উঠেছে কমা তার উত্তর তাঁর সাবেক স্বামীকেই দিতে হবে। এনপিআর এর ওয়াইল্ড কার্ড নামক একটি পডকাস্টে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা ও বর্তমান বিতর্কের ওপর আলোকপাত করেন।

২০২১ সালে ২৭ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছিলেন বিল ও মেলিন্ডা গেটস। নথিতে বিল গেটসের নাম আসায় মেলিন্ডা বলেন, কমা এই ঘটনাগুলো তাঁকে সেই পুরনো এবং অত্যন্ত কষ্টদায়ক সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। মেলিন্ডা জানান কমা এসব বিষয় যখন সামনে আসে কমা তখন ব্যক্তিগতভাবে তাঁর জন্য তা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এতে তাঁর বিবাহিত জীবনের সেই ভয়াবহ যন্ত্রণাদায়ক দিনগুলোর কথা বারবার মনে পড়ে। মেলিন্ডা আরও যোগ করেন যে কমা সেই বিষাক্ত পরিবেশ থেকে বের হয়ে আসতে পেরে তিনি এখন বড় ধরনের স্বস্তি অনুভব করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে বিল গেটসকে নিয়ে কিছু বিতর্কিত ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, যৌনরোগের অভিযোগ। নথিতে দাবি করা হয়েছে যে কমা বিল গেটস কোনো একটি যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে বিল গেটসের পক্ষ থেকে এই দাবিকে একেবারে অমূলক ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া এপস্টেইনের গোপন ইমেইলে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কমা ২০১৩ সালের দুটি ইমেইল পাওয়া গেছে যা সম্ভবত এপস্টেইন নিজে খসড়া করেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে কমা বিল গেটস এক রুশ নারীর সঙ্গে সম্পর্কের পর কিছু সমস্যার সম্মুখীন হন এবং তার জন্য ওষুধ সংগ্রহ করতে হয়েছিল। যদিও এই ইমেইলগুলো সরাসরি বিল গেটসের কাছে পাঠানো হয়েছিল কি না কমা তার কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা গেটস স্পষ্ট করেন যে কমা তিনি সব প্রশ্নের উত্তর জানেন না এবং জানার প্রয়োজনও মনে করেন না। তিনি বলেন কমা যাঁদের নাম এই নথিতে এসেছে কমা তাঁদের প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে। এমনকি তাঁর সাবেক স্বামীকেও জবাব দিতে হবে। এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব তাঁদেরই কমা মেলিন্ডার নয়। 

উল্লেখ্য, কমা এর আগেও মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল যে কমা বিচ্ছেদের আগে থেকেই বিল গেটসের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ নিয়ে মেলিন্ডা অত্যন্ত অস্বস্তিতে ছিলেন। ২০১৯ সালে বিল গেটস স্বীকার করেছিলেন যে কমা ২০ বছর আগে মাইক্রোসফটের এক কর্মীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।

নতুন বিতর্কের মূল পয়েন্টগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায় কমা মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথিই এই বিতর্কের মূল সূত্র। বিল গেটস সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর মুখপাত্র একে ভিত্তিহীন বলেছেন। 

অন্যদিকে, মেলিন্ডার প্রতিক্রিয়া থেকে এটি স্পষ্ট যে কমা এটি তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা এবং উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব কেবল বিল গেটসের। ২০২১ সালে তাঁদের বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে এপস্টেইন ইস্যুকে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে আইনি দিক থেকে কোনো নারীই সরাসরি বিল গেটসের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেননি।

এপস্টেইন নথিতে কেবল বিল গেটস নন কমা বরং বিল ক্লিনটনের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামও এসেছে। তবে গেটসের মুখপাত্র দাবি করেছেন কমা দাতব্য কাজের সূত্রেই এপস্টেইনের সাথে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল এবং তা কোনো ব্যক্তিগত অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল না। মেলিন্ডা গেটসের এই বক্তব্য বিল গেটসকে এক নতুন ধরনের সামাজিক ও নৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে। যদিও আইনিভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বড় কোনো অপরাধের প্রমাণ এখনো মেলেনি কমা তবে নৈতিকতার কাঠগড়ায় বিল গেটসকে যে এখন জনসমক্ষে কড়া প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে কমা তা নিশ্চিত।

জেএইচআর