কুমারী মেয়ের নীরবতাই বিয়ের সম্মতি, আফগানিস্তানের নতুন আইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
আফগান তরুণী। ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে পারিবারিক আইন ও সামাজিক বিধিবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে তালেবান সরকার। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ এবং পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে নতুন একটি ৩১ অনুচ্ছেদের বিধিমালা জারি করা হয়েছে, যা দেশটির বিচারব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তালেবান সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার অনুমোদনে জারি হওয়া এই ডিক্রিতে বিয়ে সংক্রান্ত নানা প্রক্রিয়া, অভিভাবকের ভূমিকা এবং বিচ্ছেদ সংক্রান্ত আইনি কাঠামো নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নতুন বিধিমালার একটি আলোচিত অংশে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো অবিবাহিত নারীর নীরবতাকে বিয়ের সম্মতির ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে একই নিয়ম পুরুষ বা বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

এছাড়া আইনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের কিছু শর্তসাপেক্ষ অনুমতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পারিবারিক সিদ্ধান্তে নির্ধারিত বিয়ের ক্ষেত্রে বর সামাজিকভাবে উপযুক্ত কি না এবং মোহরানার বিষয়টি ইসলামী মানদণ্ড অনুযায়ী হচ্ছে কি না—তা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে।

আইনে ‘খিয়ার আল-বুলুগ’ নামে একটি বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কেউ বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর শৈশবে হওয়া বিয়ে নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ পেতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ধর্মীয় আদালতের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নিয়মে বিচারকদের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। তারা পারিবারিক বিরোধ, দীর্ঘ অনুপস্থিতি, ধর্মীয় অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনে বিচ্ছেদ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে নারী অধিকার ও সামাজিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনার মধ্যেই এই নতুন আইন জারি করা হলো, যা দেশটির সামাজিক কাঠামোতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এএন