ভারতের তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সদস্য ও অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের মাথা কেটে আনতে ১ কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণার অভিযোগে এক বিজেপি নেতাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহর জেলার সিকান্দরাবাদের বিজেপি পৌর চেয়ারম্যান প্রদীপ দীক্ষিতের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই তোলপাড় শুরু হয়।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের একটি পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সিকান্দরাবাদে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই পোস্টে শিবলিঙ্গ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলে হিন্দু সংগঠনগুলো। সেই বিক্ষোভ চলাকালে ধারণ করা একটি ভিডিওতে প্রদীপ দীক্ষিতকে বলতে শোনা যায়, “যে সায়নী ঘোষের কাটা মাথা এনে দেবে, তাকে আমার পক্ষ থেকে ১ কোটি রুপি নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে।”
এই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সায়নী ঘোষ তাঁর ভেরিফায়েড ‘এক্স’ (টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আমার মাথা কেটে আনতে ১ কোটি রুপির পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে এমন প্রকাশ্য ঘোষণা দেখে আমি বিস্মিত।”
তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে ট্যাগ করে প্রশ্ন তোলেন, নতুন ভারতে এটাই কি সরকারের ‘নারী শক্তি বন্দন’র ধারণা? সায়নী আরও অভিযোগ করেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজেপি নারী নিরাপত্তাকে বড় ইস্যু করলেও এখন একজন নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিকে প্রকাশ্য মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি কলকাতা পুলিশ ও উত্তর প্রদেশ পুলিশকে অভিযুক্ত বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অবশ্য বিতর্কের সূত্রপাত হওয়া সেই পুরোনো পোস্টের বিষয়ে সায়নী ঘোষ আগেই জানিয়েছিলেন, সে সময় তাঁর অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল এবং নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পরপরই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।
এদিকে মাথা কাটার ঘোষণার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিন্দার ঝড় ওঠে। তবে চাপের মুখে পড়ে নিজের বক্তব্য অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা প্রদীপ দীক্ষিত। তাঁর দাবি, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়েছে এবং তিনি নিজে এমন কোনো বক্তব্য দেননি।
জেএইচআর