সম্প্রতি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই ধারাবাহিক হামলার কারণে রাশিয়ার প্রায় সব বড় শোধনাগার তাদের উৎপাদন সম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার মুখে পড়া শোধনাগারগুলোর মোট বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৮ কোটি ৩০ লাখ টনেরও বেশি। এটি রাশিয়ার মোট তেল পরিশোধন সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৫ শতাংশ)।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব শোধনাগার দেশটির মোট পেট্রোল উৎপাদনের ৩০ শতাংশের বেশি এবং ডিজেল উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে। এই পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত অভ্যন্তরীণ ঘাটতি মেটাতে রাশিয়া ইতোমধ্যে এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পেট্রল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের শুরু থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বিশেষ করে তেল শোধনাগার, প্রধান পাইপলাইন ও তেল সংরক্ষণাগারগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
এর ফলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়ার তেল উৎপাদনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির ফেডারেল বাজেটেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কারণ রাশিয়ার মোট জাতীয় রাজস্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে এই তেল ও গ্যাস খাত থেকে।
হামলার শিকার হওয়া প্রধান শোধনাগারগুলোর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম রাশিয়ার কিরিশি, মস্কো অয়েল রিফাইনারি, ভলগা নদীর তীরের নিঝনি নোভগোরদ, রিয়াজান ও ইয়ারোস্লাভল এলাকার শোধনাগারগুলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কিরিশি শোধনাগারটি গত ৫ মে থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ২ কোটি মেট্রিক টন। এ ছাড়া ১ কোটি ৭০ লাখ টন সক্ষমতার নিঝেগোরোদনেফতেওর্গসিনতেজ শোধনাগারেও গত ২০ মে হামলা চালানো হয়। হামলার পর সেটি আংশিকভাবে সচল রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জেএইচআর