কলকাতা হাইকোর্ট

ইসলামে গরু কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন ঈদুল আজহার আগে ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মহিষ জবাইয়ের ওপর রাজ্য সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছেন, ইসলাম ধর্মে গরু কোরবানি করা বাধ্যতামূলক কোনো বিধান বা ধর্মীয় আবশ্যিক অংশ নয়।

প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই মন্তব্য করে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানান।

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি শেষে আদালত জানান, ২০২৬ সালের ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেছে, তা মূলত ২০১৮ সালে হাইকোর্টের দেওয়া একটি পূর্ববর্তী নির্দেশনারই ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। ফলে এই আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন করে স্থগিতাদেশ বা বাতিলের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

এর আগে, একাধিক জনস্বার্থ মামলায় রাজ্য সরকারের ওই আদেশ বাতিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছিল।

মূলত ১৯৫০ সালের ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু কোরবানি নিয়ন্ত্রণ আইন’ নিয়ে এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত। এই আইনের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী- ধর্মীয়, চিকিৎসা কিংবা গবেষণার উদ্দেশ্যে কোনো নির্দিষ্ট পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষমতা সরকারের আছে কি না, সে বিষয়ে আদালত রাজ্য প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন।

রাজ্য সরকারের পূর্ববর্তী বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার বলা হয়েছিল, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মহিষকে ‘নাজুক’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং উপযুক্ত সনদপত্র ছাড়া এগুলো জবাই করা যাবে না।

মামলার শুনানিতে এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, সংশ্লিষ্ট আইনটি মূলত কলকাতা ও নির্দিষ্ট কিছু পৌরসভার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল, যা পুরো রাজ্যের ওপর কার্যকর হতে পারে না। তবে আদালত তার এই যুক্তিতে সাড়া দেননি।

অন্যদিকে, কলকাতা পৌরসংস্থার আইনজীবী নীলোৎপল চ্যাটার্জি আদালতকে আশ্বস্ত করে বলেন, পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও জবাইখানা তাদের রয়েছে। পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য ও ছাড়পত্রের সনদ দেওয়ার জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তাও নিয়োজিত আছেন।

আদালত এই প্রসঙ্গে পর্যবেক্ষণ দিয়ে জানান, সনদ দেওয়ার সঠিক ব্যবস্থা বজায় রাখার মূল দায়িত্ব রাজ্যের। কোনো ধরনের ঘাটতি বা অব্যবস্থাপনা দেখা গেলে তা দ্রুত সংশোধন করারও তাগিদ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এএন