ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আবারও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করতে পারে, এমন একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। নতুন এই হামলার ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গত বুধবার (২৭ মে, ২০২৬) ইরানের একটি সামরিক স্থাপনায় এই হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি ইরানি ড্রোনও ভূপাতিত করেছে।

তবে ঠিক কোন স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, মূলত হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কয়েক মাস ধরে চলা এই সংঘাত বন্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ইতোমধ্যে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সম্ভাব্য একটি শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। ট্রাম্প এই দাবি অস্বীকার করে স্পষ্ট জানান, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এর আগেও গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরেকটি হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, সেটি ছিল পুরোপুরি একটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। তবে ইরান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ওই হামলাকে চলমান যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, তাদের লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল মাইন স্থাপনের চেষ্টা করা নৌযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এগুলোকে তাদের মোতায়েনকৃত সেনাদের জন্য সম্ভাব্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, একাধারে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও ব্যাকস্টেজে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখনও চরম পর্যায়ে রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত খুবই কম।

জেএইচআর