ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসনে প্রায় তিন মাস ধরে আলোচনা চললেও এখনও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই মাসের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায়, এর মেয়াদ বৃদ্ধিতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, ট্রাম্পের দেওয়া দুটি কঠিন শর্তে তেহরান রাজি না হওয়ায় থমকে গেছে বহুল প্রতীক্ষিত এই শান্তিচুক্তি।
ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ওয়াশিংটনে তৎপরতা বাড়িয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘সিচুয়েশন রুমে’ প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরান মূলত স্থায়ী শান্তির পথ খুঁজতে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
বৈঠক শেষে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হয়- এমন চুক্তিতেই সই করবেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেওয়া হবে না। অবশ্য ইরানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার দাবি, দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও চূড়ান্ত সম্মতি আসতে এখনও কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি।
চুক্তি সম্পাদনে ইরানকে মূলত দুটি অলঙ্ঘনীয় শর্ত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট:
১. হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ছাড়: হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে ইরানের একক আধিপত্য পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে এবং সেখানে যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হবে। কোনো ধরনের শুল্ক ছাড়াই এই আন্তর্জাতিক জলপথ উন্মুক্ত করতে হবে।
২. পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ: ভবিষ্যতে ইরান আর কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করতে পারবে না- এই মর্মে মুচলেকা দিতে হবে। এমনকি ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান মাটি খুঁড়ে হলেও তাদের পারমাণবিক সামগ্রী বের করে আনবে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের এমন কঠোর শর্তের বিপরীতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের এসব বক্তব্য মূলত বিশ্বমঞ্চে নিজের ‘জয়’ দেখানোর রাজনৈতিক চেষ্টা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ কেবল ইরান ও ওমানের হাতেই থাকবে। একই সঙ্গে তারা শর্ত দিয়েছে, হরমুজে ইরানি জাহাজের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই প্রণালী উন্মুক্ত করা হবে না।
পাল্টা জবাবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যদি হরমুজ থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ সরায়, তবে ওয়াশিংটনও ধাপে ধাপে ইরানি জাহাজের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেবে। ফলে আগামী কয়েক দিনে দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থান থেকে কতটা ছাড় দেয়, তার ওপরেই নির্ভর করছে এই শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ।
এএন