রাজধানীর একটি আদালতে শুনানিকালে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন আসামিপক্ষের আইনজীবীকে আদালতকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলামের আদালতে বুধবার দুপুরে ঘটে এই ঘটনা।
পল্টন থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধনসহ সাত আসামিকে সেদিন আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে।
শুনানির সময় উত্তেজনা: আসামি বরিকুল ইসলামের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী এ এস এম আলী হায়দার। তিনি বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, এক সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাগুলোতে গতিশীলতা ছিল, কিন্তু এখন তা স্তিমিত হয়ে গেছে। সময়ের পরিক্রমায় দেখা গেছে, অনেক মামলা প্রত্যাহার হয়েছে এবং অনেকে নাম প্রত্যাহার করেছে। এমনকি টাকার লেনদেনের বিষয়ও পেছনে ছিল।
এ বক্তব্য শুনে রাষ্ট্রপক্ষের কয়েকজন আইনজীবী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁরা বলেন, আপনি আদালতে এভাবে কীভাবে বলছেন? বক্তব্যটি প্রত্যাহার করুন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে বাধা দেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে বিচারক এ এস এম আলী হায়দারকে আদালতকক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে নির্দেশ দেন।
আইনজীবী বেরিয়ে যাওয়ার সময় আদালতকক্ষে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষের কিছু আইনজীবী তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এরপর অন্য আসামিদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত শুক্রবার বিজয়নগর পানির ট্যাংকি এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বরিকুল ইসলাম বাঁধনসহ ১৩ জনকে আটক করে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। আর এর মধ্যে সাতজনকে বুধবার আদালতে হাজির করা হলে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ বলেন, আদালতের মর্যাদা রক্ষায় বিচারকের সিদ্ধান্ত যুক্তিসঙ্গত, আবার অনেকে মনে করেন-একজন আইনজীবীকে এভাবে আদালত থেকে বের করে দেওয়া পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী।
একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আদালত হলো যুক্তি উপস্থাপনের স্থান। সেখানে মতের পার্থক্য থাকলেও শালীনতা বজায় রাখা জরুরি। তবে শুনানির সময় হট্টগোল হওয়া কোনো পক্ষের জন্যই ভালো বার্তা নয়।
ঘটনাটি আইনজীবী মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, আদালতে শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবারই দায়িত্বশীল থাকা প্রয়োজন।
জেএইচআর