পানি দিয়ে আলামত নষ্ট, ডিএনএ টেস্টে মেলেনি রামিসা ধর্ষণের প্রমাণ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ১২:৪২ এএম

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার পর পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করে ফেলেছিল আসামি সোহেল রানা। প্রথমে ছুরির আঘাতে ভুক্তভোগীর যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করার পর পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত মুছে ফেলা হয়। যার কারণে শিশু রামিসার ডিএনএ পরীক্ষার পরও ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি। তবে আলামত নষ্টের এই বিষয়টি মামলার চার্জশিটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির চার্জগঠন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এই মামলার কার্যক্রম চলবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু জানান, আসামি সোহেল রানা ধর্ষণের আলামত সুকৌশলে নষ্ট করে ফেলায় ডিএনএ টেস্টে তা আসেনি। আদালতে তোলার সময় আসামি সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে 'ডলার' নামের এক ব্যক্তির ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ একে বিচার ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঘটনাস্থল ও আলামত শুকনা থাকা জরুরি। পানির সংস্পর্শে এলে ডিএনএ নমুনা নষ্ট হয়ে যায়, যা এই মামলার ক্ষেত্রে ঘটেছে। আলামত মুছে ফেলার এই পুরো বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা ১৮ জনকে সাক্ষী করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

জেএইচআর