পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের জন্মদিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘জসীম উদ্দীন, মানবিকতার মহান কবি’ শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পর্ষদ সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কীপার আসমা ফেরদৌসি।
প্রবন্ধে ও আলোচনায় পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের সাহিত্যে চর্চার পাশাপাশি মানুবিক গুণাবলীর নানাদিক উঠে এসেছে। জসীম উদদীন বহুমুখী আধুনিক ব্যক্তিত্ব এবং একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
তাঁর ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ ১৯৪০ সালের মধ্যেই একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯৬৯ সালে ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ ইউনেস্কোর অনুবাদ প্রকল্পে দ্বিতীয় গ্রন্থ হিসেবে অনূদিত হয়েছে। তাঁর রচনায় এক বিস্ময়কর মানবপ্রেমী বৈশিষ্ট পরিলক্ষিত হয়। সবসময় সহানুভূতিশীল ছিলেন নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের প্রতি।
বিশেষ করে দরিদ্র কৃষক, দিনমজুর ও রাখালের প্রতি তাঁর অসম্ভব মমতা লক্ষ্য করার মতো। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তথা বাংলার হিন্দু-মুসলমান উভয় সমাজের মানুষের জীবনকে তিনি অসামান্য দরদে উপস্থাপন করেছেন। নিপুণভাবে সমাজ বাস্তবতায় মানুষের জাগতিক দুঃখের রূপায়ণ করেছেন।
গ্রামীণ জীবনযাপন এবং পরিবেশ-প্রকৃতিকে সাহিত্যে ফুটিয়ে তোলার বিশেষ সুখ্যাতি তাঁকে পল্লী কবির উপাধি এনে দিয়েছে। তাঁর কবিতা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং অসংখ্য পল্লীগীতি এখনো গ্রাম বাংলার মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।
যেমন- আমার হার কালা করলাম রে, আমায় ভাসাইলি রে, বন্ধু কাজল ভ্রমরা রে ইত্যাদি। তিনি কেবল কবিতার জন্যই খ্যাতি অর্জন করেন নি। তাঁর অসংখ্য গল্প, উপন্যাস, নাটক, জীবনী গ্রন্থ ও লোক-সাহিত্য গ্রন্থগুলিও অনেক খ্যাতি অর্জন করেছে।
এছাড়াও সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি তিনি ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার একজন দৃঢ় সমর্থক। বাংলার মানুষের জীবন-কর্ম নিয়ে অনবদ্য সৃষ্টি করে অমর হয়ে থাকবেন কাল থেকে কালান্তরে।
এইচআর