ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির (ওসমান হাদি) শাহাদাতের খবরে দেশজুড়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘ছায়ানট’ ভবনে ভয়াবহ হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে একদল বিক্ষোভকারী।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার পর ধানমন্ডির শংকর এলাকায় অবস্থিত এই সাততলা ভবনে এই তাণ্ডব চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে জানা যায়, বিক্ষোভকারীরা দলে দলে ভবনে ঢুকে পড়ে প্রথমে সংগঠনের নামফলক ভেঙে ফেলে। এরপর তারা নিচতলা থেকে শুরু করে তৃতীয় তলা পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি কক্ষে তছনছ চালায়। মিলনায়তনের মনিটরিং সিস্টেম, লাইট, ফ্যানসহ আসবাবপত্র এবং সেখানে থাকা দুষ্প্রাপ্য মাটির চারুকর্ম ও শিল্পকর্মগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি সঙ্গীতবিদ্যায়তনের বাদ্যযন্ত্রগুলোও হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের লাইভ ফুটেজে দেখা গেছে, ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তন এবং সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের অফিস কক্ষগুলোর আসবাব ও নথিপত্র তছনছ করে ফেলা হয়েছে। ভাঙচুরের সময় হামলাকারীদের ‘বাংলাদেশে কোনো ভারতীয় সংস্কৃতি চর্চার জায়গা নেই’ এমন স্লোগান দিতে শোনা যায়। পরবর্তী সময়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এই বর্বরোচিত হামলার পর এক জরুরি সিদ্ধান্তে ছায়ানট ভবনে পরিচালিত ‘ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তনের’ ক্লাসসহ সংগঠনের সকল কার্যক্রম পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রতিষ্ঠানের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই অস্থিরতায় একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন পরিকল্পিত হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ধানমন্ডি ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
ইএইচ