আড়ি পেতে নয়
আমি কান পেতে শুনি সময়ের নিঃশ্বাস,
তৃতীয় চোখে পড়ি
দেয়ালের গায়ে লেখা অব্যক্ত আর্তনাদ।
তারপরও
পথহারা, দিশেহারা আমি
প্রান্তর থেকে প্রান্তরে খুঁজি
শান্তি নামের এক নীলপারিজাত।
শান্তি আসে
আমার ভাঙা ঘরের ভাঙা চালে
দখিনা হাওয়ার হাত ধরে,
চুপি চুপি সকাল-সন্ধ্যা
আমার উঠোনে ঢুকে আবার ফিরে যায়।
কিন্তু আমি নিরুপায়।
এক সিঁধেল চোর
আমার সাতপুরুষের ঘামেভেজা গন্ধমাখা ভিটের সিঁদ কেটে
চুরি করেছে আমার নিটোল নীরব আত্মা
আমি তখন কুম্ভকর্ণের তন্দ্রায়।
আত্মাহীন দেহে
শান্তির তো অধিকার নেই।
তবু শান্তি
আমাদের চৌকাঠে দেদীপ্যমান,
আর আমরা
আহা! আত্মাহারা, রোরুদ্যমান।
তবে কি আমাদের আত্মা
আজ প্রেতাত্মা?
নাকি আমরা ভুলে গেছি
আমাদের সত্ত্বা?
জীবন নদী প্রমত্ত
সে বয়ে যায় প্রশ্ন ছুঁড়ে,
আর আমি দাঁড়িয়ে থাকি তীরে,
নিজের সত্ত্বাকে চেনার অপেক্ষায়।