পাঁচ দফা দাবিতে ‍‍‘নিরাপদ হাসপাতাল চাই’র মানববন্ধন

মো. মাসুম বিল্লাহ প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৩, ০৪:৫১ পিএম

সারাদেশে সুচিকিৎসা, রোগী-স্বজন, ডাক্তাদের নিরাপত্তাসহ, টেস্ট-মেডিসিনের মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে চিকিৎসাক্ষেত্রে দালাল নির্মূলের লক্ষ্যে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে ‍‍`নিরাপদ হাসপাতাল চাই’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন।

শুক্রবার ( ২৭ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, ‘নিরাপদ হাসপাতাল চাই’ সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা বলতে চাই স্বাধীনতার ৫১ বছর পরও সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারিনি। অনেকে অর্থের অভাবে এখনো চিকিৎসা করাতে পারছে না। সাথে ভুল ও অপচিকিৎসার শিকার তো নিত্যদিনের বিষয়।

ডাক্তার থাকলে ওষুধ থাকে না, ওষুধ থাকলে ডাক্তারের দেখা মেলে না। কাঙ্খিত পৃথিবী গড়ি, সুস্থ ভবিষ্যত নিশ্চিত করি’ এই স্লোগানকে ধারণ করে সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবারের সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস পালিত হয়েছে। যার মূল লক্ষ্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সকল মানুষ প্রয়োজনে মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং সেবা পেতে গিয়ে কেউ যেন দরিদ্র হয়ে না পড়ে সেটি নিশ্চিত করা।

বাস্তবতা হলো, চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশের ২৪ শতাংশ পরিবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। যা প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে এ হার সবচেয়ে কম ভুটানে। মনে পড়ে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘যেদিকে তাকাই, সেদিকেই দেখি শুধু চাটার দল’। এ ‘চাটার দল’ গত পঞ্চাশ বছরে চাটার নতুন নতুন ফন্দি ফিকির এঁটেছে, চেটেছে আর বাড়িয়েছে নিজেদের চর্বি।

বিগত পঞ্চাশ বছরে দেশের কাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হয়েছে। দেশ আজ স্মাটের পথে। নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এত বছর পরও দেশের বেশিরভাগ জেলা সদর হাসপাতালে রোগীর চোখের আলো উজ্জ্বল কিনা, সেটা পরীক্ষা করতে শুধু লাইট মারার ব্যবস্থা ছাড়া কোন উন্নয়ন ঘটেনি।

তারা আরও বলেন, সেবা পেতে গিয়ে কেউ দরিদ্র হবে না, এমন নীতিবাক্য দিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস পালিত হলেও তা শুধুই কেতাবেই রয়ে গেছে। বিট্রিশদের রেল থেকে দেশ আজ মেট্রো চড়ে স্মাট যুগে এসছে। কিন্তু দুঃখ হয় চিকিৎসার স্মাটনেস আসেনি। দেশের মানুষ যখন সরকারি মেডিসিন পাইনা। পাশের দেশে পাওয়া যায় তখন দেশের সরকারি ওষধ।

সারাদেশের উপজেলা, জেলা হাসপাতালগুলোর শোচনীয় অবস্থা। নেই নুন্যতম পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবার নিশ্চয়তা নেই সেখানে। সংবিধানে জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলে অভিহিত করা হয়েছে। কিন্তু সত্য হলো এত বছর পরও আমরা সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারিনি।

সমাজের বিত্তবান ও রাজনৈতিক বেশিরভাগ মানুষই অর্থ ব্যয় করে বিদেশে বা দেশের নামকরা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। কিন্তু দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল সরকারি হাসপাতাল।

সংবিধানে জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাথমিক যে কর্তব্য তা নিশ্চিতে “নিরাপদ হাসপাতাল চাই” ৫ দফা দাবি নিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে, যা সেবা নিশ্চিত হবার আগ পযন্ত চলবে এবং এ আন্দোলন ছড়িয়ে যাবে প্রতিটি পাড়া- মহল্লাতে ।

৫ দফা দাবি হলো:

১। দালাল মুক্ত ও রোগীবান্ধব হাসপাতাল গড়তে হবে।
২। জেলা সদরে আইসিইউ, সিসিইউসহ সকল পরীক্ষা সেবা নিশ্চিত করে আসন বাড়াতে হবে।
৩। রোগী ও চিকিৎসকদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪। হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
৫। পরীক্ষা ফি এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

মানববন্ধনে উপস্থিত  ছিলেন- এফ.এ.শাহেদ (সমন্বয়ক), শাহরিয়ার সোহাগ (সহ-সমন্বয়ক), সালেকুজ্জামান রাজিব (সদস্য), আহসান হাবিব সবুজ (সদস্য), ইঞ্জিনিয়ার ফকর উদ্দিন মানিক, রোমেন রায়, সৈয়দ মুহাম্মদ আজম, রেজোয়ান ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, খতিব আসলাম, আবির হুসাইন প্রমুখ।

টিএইচ