মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

রাষ্ট্র ও জনবান্ধব আমলাতন্ত্রে বিশ্বাসী ফরিদা পারভীন

মো. মাসুম বিল্লাহ প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৩, ১২:৫৪ এএম

দেশ ও দশের তরে কাজ করার সুযোগ সবার ভাগ্যে জুটে না, আবার যাদের ভাগ্যে জুটে তাদের অনেকেই এর স্বাদ নিতে চান না। এমনটি গল্পের ছলে বিভিন্ন সময়ে শোনা গেলেও বাস্তবে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এমন একজন কর্মকর্তা রয়েছেন, যিনি পরিবার থেকেই পেয়েছেন দেশ ও দশের তরে কাজ করার শিক্ষা। প্রচারবিমুখ, দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের জন্যই কাজ করে যাওয়া বিসিএস অষ্টম ব্যাচের ওই কর্মকর্তার নাম ফরিদা পারভীন। 

বর্তমানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। চাকরি জীবনের শুরু থেকেই সাফল্যের সঙ্গে সরকারের বহুমুখী দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দেশপ্রেম আর জনবান্ধব নীতিতে অটল থেকে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই সরকারের বিভিন্ন মহলে দক্ষ, সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসেবেও পেয়েছেন সুখ্যাতি। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ এমন কর্মকর্তাদেরই মূল্যায়নও করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ফরিদা পারভীন। তার চার ভাই সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। ৯ নং সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মাহফুজ আলম বেগ তারই আপন বড় ভাই। তার আরও তিন ভাই মরহুম মাহবুব আলম বেগ, মকবুল আলম বেগ ও মাওদুদ আলম বেগও অংশ নিয়েছিলেন দেশ স্বাধীনের সংগ্রামে। এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের ছবি তুলে চারুকলায় একুশে পদকপ্রাপ্ত মঞ্জুর আলম বেগও তার ভাই। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়কার সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরজাহান মুর্শেদও তার আপন চাচাতো বোন। পারিবারিক শিক্ষা আর অগ্রজদের অনুসরণেই দেশ মাতৃকার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা। তার সহকর্মীরা বলছেন, দেশপ্রেমিক জনবান্ধব এমন অসংখ্য আমলা রয়েছেন, যারা সরকারের সব উন্নয়ন কাজের সফল বাস্তবায়নে নিরলস নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সরকারের আস্থা অর্জন করেছেন এবং চাকরির মেয়াদ শেষে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে সরকারও তাদের এক্সটেনশন করেছে; তার অসংখ্য নজিরও রয়েছে। রাষ্ট্র ও জনবান্ধব বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা ফরিদা পারভীনের ক্ষেত্রেও এমনটিই আশা করছেন তার সহকর্মীরা। তারা বলছেন, তার এক্সটেনশনে যেমন নারী উন্নয়ন ঘটবে তেমনি সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ ছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রমেও যেমন বজায় থাকবে স্বাভাবিক গতিশীলতা তেমনি অসম্পূর্ণ সব পরিকল্পনারও ঘটবে সফল বাস্তবায়ন। যে কারণে তার এক্সটেনশন প্রত্যাশা করছেন তারা।   

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জনবান্ধব আমলাতন্ত্রে বিশ্বাসী বিসিএস ১৯৮৬ ব্যাচের এই কর্মকর্তা দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ সততা ও সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে দায়িত্ব পালনে সাফল্যের জানান দেয়ায় ব্যাপক প্রশংসাও কুড়িয়েছেন তিনি। দায়িত্ব পালন করেছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হিসেবেও। সেখানেও তার হাতছাড়া হয়নি সাফল্যের ধারাবাহিকতা। সাফল্যের এমন ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পান মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দুই বছরের মধ্যেই এখানেও সাফল্যের জানান দিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাপ্তরিক কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্নতা আর আন্তরিকতায় এই অধিদপ্তর পরিচালনার ক্ষেত্রেও সাফল্য ধরা দিয়েছে তাকে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর মধ্যে অন্যতম এই দপ্তরেও মহাপরিচালক হিসেবে বহুমাত্রিক সাফল্যের পালক ইতোমধ্যেই তিনি জুড়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে বলছেন অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তার দক্ষতা আর নেতৃত্বগুণের কারণেই এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের তৃণমূলের নারী ও শিশু পর্যায়েও দ্রুত সময়ের মধ্যেই পৌঁছেছে সরকারের বহুমুখী সুযোগ-সুবিধা। ছয়টি গুচ্ছে অধিদপ্তরের চলমান সার্বিক কার্যক্রমের আওতায়ও এসেছে শিশু-কিশোর ও নারীরা। উল্লেখ্য, শুধ প্রচারবিমুখিতার কারণেই তার অর্জিত সব সাফল্য আর দেশের মানুষের সেবার মানসিকতার বিষয়টি নিয়ে তেমনি চাউর হয়নি দপ্তরের বাইরে।   

বর্তমানে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ছয়টি গুচ্ছে পরিচালিত সার্বিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে— মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কার্যক্রম, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাদি ও সেবা প্রদান, সচেতনতা বৃদ্ধি ও জেন্ডার  সমতামূলক কার্যক্রম। এসবের মধ্য দিয়েই দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে রাষ্ট্র ও সমাজের মূল স্রোতধারায় আনতে নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী ৩১ লাখ ২০ হাজার নারীকে ভিডব্লিউবি, ২৮ লাখ ২৩ হাজার নারীকে মা ও শিশু সহায়তা ভাতা প্রদান, ১৬ হাজার ৬০০ জন নারীকে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করা হয়েছে। প্রায় ৬০ লাখ ৭৮ হাজার নারীকে আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তিন হাজার ৩১০ জন ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও শিশুকে আশ্রয় কিংবা আইনি সহায়তা দেয়া হয়েছে। চার হাজার ৫৯২ জন কর্মজীবী মহিলাকে হোস্টেলের মাধ্যমে নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৬৩টি ডে-কেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে কর্মজীবী মায়ের শিশুদের দিবাকালীন সেবা প্রদান করা হয়েছে। 

‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে যে সমস্ত নারী সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন তাদের মধ্য থেকে উপজেলা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন নারীকে ‘জয়িতা’ নির্বাচন ও পুরস্কৃত করার মাধ্যমে নারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কিশোর-কিশোরীদের ক্ষমতায়নে চার হাজার ৮৮৩টি ক্লাব পরিচালনা করা হয়েছে। দুস্থ ও অসচ্ছল মহিলাদের মধ্যে ১২ হাজার ৭৪৮টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। দুস্থ মহিলা ও শিশু সহায়তা তহবিল থেকে ৬২৫ জনকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও হেফাজতি মহিলা, শিশু ও কিশোরীদের বিচারকালীন সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে গাজীপুরে নির্মাণ করা হয়েছে মহিলা ও শিশুদের নিরাপদ হেফাজতি কেন্দ্র। স্থাপন করা হয়েছে মহিলা সহায়তাকেন্দ্র। 

এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নির্যাতিতা ও আশ্রয়হীন মহিলাদের বিনাখরচে অভিযোগ কিংবা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ছয় মাস, বিশেষ প্রয়োজনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে তিন মাস ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে আরো তিন মাস মোট এক বছর  অনূর্ধ্ব ১২ বছরের দুটি সন্তানসহ আশ্রয় দেয়া হয়। পাশাপাশি  বিনামূল্যে তাদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানসহ সমাজে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কেন্দ্রে অবস্থানকালীন বিনাখরচে বিভিন্ন ট্রেডে (সেলাই, কাটিং, উল নিটিং ও এমব্রয়ডারি) প্রশিক্ষণও দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১০৯ চালুর পাশাপাশি জয় মোবাইল অ্যাপসও কাজ করছে।